যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ব্যবসায়ী হাজী মানিক মিয়া আর নেই : শোক প্রকাশ
সময় সিলেট ডেস্ক :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা (বাঘমারা) নিবাসী প্রবীন মুরব্বী হাজী আব্দুর রহমান-এর প্রথম পুত্র, ইংল্যান্ডের ব্রিকলেন শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মানিক মিয়া আর নেই। শুক্রবার (১ জানুয়ারী) যুক্তরাজ্য সময় সকাল ৫ ঘটিকার সময় নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহী… রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ৬ পুত্র, ১ কন্যা, ২ ভাই, ১ বোন, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুম হাজী মানিক মিয়া’র পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে- যুক্তরাজ্যে তার দাপন-কাপন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাজী মানিক মিয়া’র মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে দেশে-বিদেশে যেন শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও তার অনেক পরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষিগণ করোনার ভয়াল প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে প্রিয় মানুষটিকে শেষ বারের মতো দেখতে যুক্তরাজ্যে তার বাসভবনে আসতে থাকেন। আবার অনেকে বিভিন্ন ভার্চুয়াল মাধ্যমে তার আকস্মিক মৃত্যু ও পরবর্তি জানাযা, দাফনসহ সার্বিক বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
এদিকে মরহুমের স্থায়ী নিবাস বিশ্বনাথের অলংকারী ইউনিয়নস্থ টেংরা (বাঘমারা) গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার মৃত্যুর খবর বাড়ি পৌঁছার পর থেকেই স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। দূর থেকে শোনা যায় কান্নার রোল। একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। কে কাকে প্রবোদ দেবে। সকলেরই যে একই অবস্থা।
হাজী মানিক মিয়া’র অকাল মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই ভিড় করছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত তার বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতা ও অন্যান্য স্বজনদেরকে শান্তনা দিতে। কেউ কেউ আসার পর সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনকে আর কতো প্রবোদ দেয়া যায়! প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে তিনিও যে আজ নির্বাক। মুখে বলে তো আর মনকে বোঝানো…! কিছুক্ষণ পর তিনিও সামিল হচ্ছেন কান্নার মিছিলে।
বিশেষ করে পুত্র শোকে বার বার মুর্চা যাচ্ছেন হাজী মানিক মিয়া’র বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতা। তারা একবার গগনবিদারী আর্তনাদে আকাশ বাতাশ প্রকম্পিত করছেন, তো আরেকবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন বাচ্চাদের মতো। তাদের চোখের জল যেন কিছুতেই ফুরাচ্ছে না। পরিবারের বড় সন্তানকে হারিয়ে তারা যেনো অসহায়, কতো শোকাতুর…! কতো ব্যথাতুর…!
এদিকে, হাজী মানিক মিয়া’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন- সালেহ আহমেদ সাকিব কল্যাণ ট্রাস্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, এসএমএস মিডিয়া লিমিটেড সিলেট-এর চেয়ারম্যান (মরহুম হাজী মানিক মিয়া’র নিকটতম আত্মীয়) দানবীর সেলিম জে আহমেদ।
আজ সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় তিনি বলেন- আমার পরমাত্মীয় একমাত্র খালু হাজী মানিক মিয়া’র মৃত্যুতে যার পর নাই আমি শোকাহত মর্মাহত। তার মতো একজন দিলদরাজ ও বিশ্বস্ত অভিভাবককে হারিয়ে আজ আমি বড় অসহায়বোধ করছি। তিনি বলেন- প্রিয় খালু বৈশ্বিক মহামারির এমন কঠিনতম সময়ে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, এমনটি ভাবতেই পারিনি। আজ তিনি মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। খালুকে হারিয়ে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কোনভাবেই যে পূরণ হবার নয়।
শোকবার্তায় সেলিম জে আহমেদ মরহুন হাজী মানিক মিয়া’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতের সর্বোচ্চ মাক্বাম কামানা করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষি-শুভানুধ্যায়ী সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




