লন্ডনীদের নিজখরচে হোটেল কোয়ারেন্টাইন : সমালোচনার ঝড়
স্টাফ রিপোর্টার :

সম্প্রতি দেশে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের নিজখরচে হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিয়ে সিলেটে ও প্রবাসে বইছে সমালোচনার ঝড়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রবাসী এবং তাদের স্বজনরা। প্রয়োজনে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে তারা বলেন- এভাবে প্রবাসীদের নিয়ে টানা হেচঁড়া করা করা থেকে বিরত রাখুন। নিজেদের বাসায় গিয়ে কোয়ারেন্টেইনে থাকারও সুযোগ চান তারা।
জানা যায়, সরকারী নির্দেশনার আলোকে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের নিজখরচে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন পালনের জন্য নগরীর ৯টি আবাসিক হোটেল নির্ধারন করে রাখে প্রশাসন। সোমবার (৪ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিআরটিসি বাসে করে হোটেলে নিয়ে আসা হয়। পৃথক ৪টি হোটেলে ৪২জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। কিন্ত অনেক প্রবাসী জানেন না যে, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। কিন্তু সিলেটে আসা মাত্রই নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলে। সেখানে হোটেল কর্তৃপক্ষ উচ্চ রেটের রুম দিলে তারা এত দামে হোটেলে থাকতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবাসী জানান- আমরা কেউ শখে দেশে বেড়াতে আসিনি। কারো স্বজন মারা গেছেন, কারো স্বজন অসুস্থ ও কারো স্বজনের বিয়ে উপলক্ষে মূলত দেশে এসেছি। আত্মীয় স্বজন সহ অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতেই মূলত এই কঠিন সময়ে আমাদের দেশে ফেরা। কিন্তু করোনাকালে হোটেলে এভাবে কোয়ারেন্টাইন করলে মাত্রাতিরিক্তি খরচের আমাদের যুক্তরাজ্য ফেরাই কঠিন হয়ে পড়বে। দীর্ঘ জার্নির পর হোটেলে অবস্থানরত যুক্তরাজ্য থেকে আসা শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বাইরের কাউকে দেখাও করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে এসেছি। প্রয়োজনে দেশে আবারও টেষ্ট করানো হোক। আমাদেরকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইন করার সুযোগ দেয়া হোক।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- বিমান থেকে নামার পর পুলিশ বাসে করে নিয়ে এসেছে। কেন কোথায় কি কারনে নিয়ে এসছে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রয়োজনে লন্ডনের সাথে বাংলাদেশের ফ্লাইট বন্ধ করে দেন, তবুও এভাবে প্রবাসীদের হয়রানী না করার অনুরোধ জানান তারা।
এব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রেমানন্দ মন্ডল সংবাদমাধ্যমকে বলেন- কোয়ারেন্টাইনে থাকা করো পক্ষেই ভাললাগার বিষয় নয়। দীর্ঘদিন পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আমাদের প্রবাসীরাও কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চাইবেন না। তবে সবাইকে জাতির স্বার্থে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।




