বিশ্বনাথের খাজাঞ্চীতে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, সেবা নেই
বিশেষ সংবাদদাতা :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নবাসী। দীর্ঘদিন যাবত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন গর্ভবতী মায়েরা, নবজাতক, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, পুষ্টিবিষয়ক’সহ প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা। জানা গেছে- ক্লিনিক ইনচার্জ রুমানা আক্তারের খামখেয়ালীপনা, দূর্নীতি, অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার কারনে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।
উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কুমারপাড়ায় অবস্থিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়ম ও দূর্ণীতির কারণে এলাকার চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা এই কমিউনিটি ক্লিনিক এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে অনেকের অভিযোগ। কারণ; এখানের দায়িত্বরত সেবাদাতাগণ অদৃশ্য কারণে অনুপস্থিত থাকেন হরহামেশা। সপ্তাহে দু-একদিন এসে দরজা খুলে বড়জোর ঘন্টা দুয়েক পর দরজায় তালা দিয়ে ফিরে যান। যেসকল ঔষধ রোগীদের দেওয়ার কথা তা তারা পান না। কমিউনিটি ক্লিনিক কেন্দ্রিক যে সকল সেবা পাওয়ার কথা তার অনেকটাই দিতে অপারগ কর্মকর্তাগণ। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তার দপ্তরে রোগী রেফার করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কুমারপাড়া, প্রতাবপুর, নোয়ারাই, মদনপুর, রায়পুর, চন্দ্রগ্রাম, হামদরচক, ভোলাগঞ্জ, কাবিলপুর, কুরিখলা, গনাইঘর, তেঘরী’সহ ইউনিয়নের ১-২-৩ নং ওয়ার্ডের নারী পুরুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই ক্লিনিকে সেবা বঞ্চিত হয়ে এলাকাবাসী হতাশায় নিমজ্জিত।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- ক্লিনিকের দরজা বন্ধ। স্থানীয় রাখালরা দরজায় বসে গল্প-গোজব করে দিন কাটাচ্ছেন। ক্লিনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে তার বিস্তারিত। ক্লিনিকের পাশ্ববর্তী কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজন আহমদ বলেন- এখানে যারা ডাক্তার আছেন, তারা সপ্তাহে দু-তিনদিন আসেন। সকাল ১১টা কিংবা সাড়ে ১১টায় কেউ আসেন আবার চলেও যান জোহরের পরপর।
তিনি জানান- এখানকার ডাক্তাররা রোগীদের ঔষধ দিতে চান না। যা দেন তা যৎসামান্য। অনেকের কাছ থেকে টাকাও নেন।
একই মন্তব্য করেন- স্থানীয় আরেক গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া। এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে চন্দ্রগ্রামের একজন মহিলা চিকিৎসা প্রার্থী বলেন- আমি আজ তিনদিন এখানে এসে কোন ডাক্তার পাইনি। যতবার এসেছি ,ততবারই দরজা বন্ধ পেয়েছি। এরকম ক্লিনিক এখানে থাকার চেয়ে না থাকাই ভাল।
অভিযোগের বিষয়ে কুমারপাড়া ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক রুমানা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- আমি নিয়মিত ডিউটি পালন করছি এবং সেবা প্রদান করে আসছি। কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন- এধরণের কিছু হলে তো ক্লিনিক পরিচালনা কমিটি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্তা নেবে।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা ঊষারানী তালুকদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান- এখানে আমি মাসে দু-একবার যাই। এখানে গেলে অনেক সময় দরজা খোলার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। এছাড়া এখানে কর্মরত চিকিৎসক রোগী আমার কাছে রেফার করে দেন, যেটা অনেক রোগী আমার কাছে এসে বলে যে তাদেরকে কুমারপাড়া থেকে এখানে পাঠিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান- এরকম অভিযোগ অনেকেই করছেন। আমরা তাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করেও কোন ফল হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান মূসার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে একাধিকবার ফোন করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




