সওজ’র অবহেলায় মরণফাঁদ বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়ক
বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা

সড়কের জলঢুপ এলাকার চালতা গাছ ও পেট্রোবাংলার বাঁকে বছরে একাধিকবার মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যেকটি ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এসব বিপদজনক বাঁকগুলো বিপদমুক্ত রাখতে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে না।
সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম অংশে রয়েছে একাধিক বিপদজনক বাঁক। প্রতিবছরই এসব ঝুঁকিপুর্ণ বাঁকে দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। সড়কের বিপদজনক বাঁকের অর্ধেক অংশে বড় বড় গর্ত এবং সেইসব গর্তে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে বার বার দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এসব দুর্ঘটনায় স্থানীয়রা সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ি করছেন।
জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়কের জলঢুপ এলাকার বিপদজনক বাঁক এলাকায় অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যান স্কুল শিক্ষক আইয়ুব আলী (৬২)। তিনি মোটরসাইকেল যোগে বিয়ানীবাজার থেকে বড়লেখায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। সড়কের পাশে পড়ে থাকা এই স্কুল শিক্ষকের লাশটি প্রথম দেখতে পেয়ে স্থানীয় এলাকার খায়রুল আলম নামে এক যুবক। পরবর্তীতে তিনি নিহত স্কুল শিক্ষকের স্বজন ও পুলিশকে খবর দেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে দ্রুত গতির একটি পিকআপ ভ্যান তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। তার ধারণা, ওই পিকআপ ভ্যানটি স্কুল শিক্ষককে চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
পরদিন ২ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে কথা হয় ইউপি সদস্য শামসুল হক ও সমাজকর্মী খায়রুল আলমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে। তারা বলছেন, ঘটনাস্থলের পাশে সড়ক ভেঙ্গে বিশাল আকৃতির একটি গভীর গর্ত হয়েছে। গর্তের কারণে মূল রাস্তার অংশ অনেকটা সরু হয়ে এসেছে। তার উপর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটিতে বিপদজনক বাঁক থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। এমন অবস্থায় উভয়দিক থেকে আসা দুটি যানবাহনের মধ্যে প্রায়শই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানান তারা।
শুধু কি স্কুল শিক্ষক আইয়ুব আলী, ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যাবেলা এই সড়কের অন্য আরেকটি ঝুঁকিপুর্ণ বাঁকে এভাবেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত ঘাতক যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিয়ানীবাজার পৌরশহরের রাব্বানী বস্ত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. মনির উদ্দিন (৬০)। ব্যবসায়ী মো. মনির উদ্দিন উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ কমলাবাড়ির বাসিন্দা।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য শামসুল হক বলেন, সড়কের জলঢুপ এলাকার চালতা গাছ ও পেট্রোবাংলার বাঁকে বছরে একাধিকবার মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যেকটি ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এসব বিপদজনক বাঁকগুলো বিপদমুক্ত রাখতে রাস্তাটি সংস্কার করা হচ্ছে না। তিনি সওজ এর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে জলঢুপ এলাকায় প্রাণহানি ঘটছে বলে দাবি করেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান বলেন, কিছুটা উজান ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়কে অনেক সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে এই সড়কে মধ্যে বড় গর্ত রয়েছে এমন খবর আমাদের কাছে নেই। শীঘ্রই সরেজমিনে পরিদর্শন করে গর্ত সংস্কার ও জলাবদ্ধতার নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




