করোনাকালে এত আত্মহত্যার কারণ কী
সময় সংগ্রহ
দেশে বেড়েছে আত্মহত্যার ঘটনা। সমাজবিজ্ঞানী ও মানোবিজ্ঞানীদের মতে, করোনাকালে হতাশা থেকে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় মহামারিতে পরিণত হয়েছে।
সে কারণে আত্মহননের মতো এমন ধংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটছে বলে ধারণা তাদের।
ব্যাংক কর্মকর্তা শওকত গুরুতর আহত অবস্থায় ঝুলে ছিলেন তারকাঁটার ওপর। শওকতকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচেননি তিনি।
রাজধানীর সবুজবাগের একটি বহুতল ভবনে থাকতেন শওকত ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি নয়। তবে নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন শওকত ছাদ থেকে লাফিয়ে পরে আত্মহত্যা করেন।
শুধু শওকত নন একইদিন সিলেটে উদ্ধার করা হয় দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ। এর আগে রাজধানীর পরিবাগে মেলে এক নারীর মরদেহ। প্রাথমিক তথ্য বলছে, তারা সবাই আত্মহত্যা করেছেন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, করোনাকালে মানু্ষের মধ্যে হতাশা আর মানসিক বৈকল্য দেখা যাচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, করোনাকালে অনেকে দেনা হয়ে গেছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত তারা উভয় সংকটে পড়ে গেছেন এ সময়ে। অনেকে রাজধানী ছেড়েছেন, সন্তানদের ভালো লেখাপড়া করানো জন্য রাজধানীতে এনেছিলেন কিন্তু করোনার কারণে চাকরি হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে তাদের পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই মহামারি এটা মানুষের ধারনার বাইরে ছিল। কাজেই সেখানে একটা বিপর্যয় দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেন ৯ হাজার ৩১০ জন। পরের বছর সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ২৫৯ জনে। করোনার শুরুর বছরের এ সংখ্যাই বলছে আত্মহত্যা বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে।
নেহাল করিম বলেন, রাষ্ট্র যেটা করতে পারে সেটা সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারে। তাদের দাঁড়াবার জন্য ঋণ দিতে পারে। সহজ শর্তে তাহলে অনেক পরিবার আবার দাড়িয়ে যায়। সমাজেরও কিছু দায় আছে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করা।
আত্মহননের এ পথ থেকে যাতে বিপদগামীরা বেরুতে পারেন সেজন্য সচেতন হতে হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে।





