সিলেটের হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালালেন স্বামী
স্টাফ রিপোর্টার

প্রতীকী ছবি
সিলেটে স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার পর ওসমানী হাসপাতালে মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত খোকন মিয়া (৩০) সিলেটের মোগলাবাজার থানার দাউদপুর এলাকার তিরাশি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তবে খোকনের পরিবারের দাবি- আত্মহত্যা করেছেন ওই গৃহবধূ। পুলিশ বলছে, তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায়- খোকন মিয়া বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার স্ত্রী রুমী বেগমকে (২১) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার রুমীকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যান খোকন। খোকনের সঙ্গে আসা তার ভাইকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি হাসপাতালে।
রুমী বেগমের বাবার বাড়ি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেব বাজার এলাকায়।রুমীর ভাই জুনেদ মিয়া জানান- খোকনের সঙ্গে তার বোনের পারিবারিকভাবে দু’বছর আগে বিয়ে হয়। খোকন ও রুমীর সংসারে একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই খোকন বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে রুমীকে নির্যাতন করতেন। সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। বুধবার সকালে রুমী তার মাকে কান্নাভেজা কণ্ঠে ফোন করে বলেন- আমাকে বাড়িতে নিয়ে যাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।
বিকেলে খোকন তার শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে বলেন- রুমী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তারা রুমীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খোকন ও তার ভাই রুমীকে প্রথমে দক্ষিণ সুরমার নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা রুমীকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রুমিকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামাল তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে খোকন ও তার পরিবারের সদস্যদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দোহা জানান- ঘটনা জেনে আমি নিজে লাশ দেখতে ওসমানী হাসপাতালে যাই। মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




