পরিকল্পনায় বদলে যাচ্ছে সিলেটের পর্যটন : দিগন্ত উন্মোচিত হবে মনে করছেন জেলা প্রশাসক
স্টাফ রিপোর্টার

বহুমুখী এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সিলেটের পর্যটন উন্নয়নে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে মনে করছেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।
প্রকৃতি কন্যা সিলেট। সীমান্ত ঘেষা পাহাড়, স্বচ্ছজল, সোয়াম ফরেস্ট আর ৩৬০ আউলিয়ার এ শহরে প্রতিনিয়ত মানুষ ঘুরতে আসেন। কেউ ছুটি কাটাতে, কেউ আসেন মাজার জিয়ারতে। তাইতো বৃহস্পতি থেকে শনিবারের সরকারি ছুটিতে সিলেটে আসেন প্রায় এক লাখের মতো মানুষ।
এই ঘুরতে আসা মানুষকে কেন্দ্র করেই সিলেটে গড়ে উঠেছে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। বাড়ছে পর্যটন কেন্দ্রে ভিড়। সেই ভিড়কে কাজে লাগিয়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে বাড়ছে কর্মসংস্থানও। তবে পরিকল্পনার অভাব ছিল প্রতিটা পর্যটন কেন্দ্রে। এ নিয়ে বিস্তর অভিযোগও শোনা যায় বিভিন্ন সময়।
তবে সব অভিযোগ-অনুযোগ বিবেচনায় নিয়ে এবার সেই কর্মসংস্থান আর পর্যটকদের সুবিধা দিতে করা হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। সরকারের মেগা প্রকল্পের আওতায় ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় তৈরি করা হবে ভাসমান ঘাট, শৌচাগারসহ অত্যাধুনিক সুবিধাসম্বলিত অবকাঠামো। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের জন্য চালু হচ্ছে ‘হোম স্টে’ সার্ভিস আর পৃথিবী বিখ্যাত চেরাপুঞ্জি যাওয়া-আসার সুবিধার্থে ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশনে চলছে ইমিগ্রেশন চালুর প্রক্রিয়া। যা বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে পুরো সিলেটের পর্যটনখাত। বাড়বে সৃবিধা, আসবে অর্থ; হবে কর্মসংস্থান।

এমনই কিছু পরিকল্পনার কথা সিলেট ভয়েসকে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।
তিনি বলেন- ‘সিলেটের প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তবে সিলেটের সকল পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা অসুবিধায় পড়েন। এই বিষয়টি মাথায় নিয়ে সিলেটের সকল পর্যটনকেন্দ্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু কাজ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে সিলেটের পর্যটনখাত পুরোপুরি বদলে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাকৃতিক রুপ দেখতেই সিলেটে মূলত পর্যটকরা আসেন। এসব সংরক্ষণের জন্য কাজ করতে হবে। পর্যটকদের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। সড়ক, ওয়াসরুম, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন- ‘ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। জাফলংয়ে সিঁড়ি করেছি। সাদা পাথরকে নিয়ে মহাপরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে সাদাপাথরে ওয়াসব্লক করেছি। বিছানাকান্দি সড়কটি এই মুহূর্তে একটু খারাপ আছে। এটিরও কাজ চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাদাপাথর নিয়ে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা একটা মাস্টার প্লান করবো। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষজ্ঞ লোকদের নিয়ে এই মাস্টার প্লান তৈরি করা হবে। এটি করতে হয়তো তিনমাস লাগবে। এটি হয়ে গেলে আমাদের যে বাজেট আছে তা নিয়ে কাজ শুরু হবে। এখানে পানি কমবেশি হয়। সুতরাং এগুলো মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।’
দেশের একমাত্র সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল নিয়ে দুইভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আমরা দুইভাবে রাতারগুলের শৃঙ্খল করার জন্য চেষ্ঠা করছি। একটি প্রশাসনিকভাবে আরেকটি বন বিভাগকে নিয়ে। এছাড়া রাতারগুলে প্রবেশ ফি ধার্য করেছি।’
সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যেতে নৌকার ব্যবহার করতে হয় জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা অধিকাংশ স্পটে নৌকার ভাড়ার নির্ধারণ করে দিয়েছি। যদিও পর্যটক সমাগম বেশি হলে অনেকসময় ভাড়া একটু বেশি নিয়ে নেন মাঝিরা। এটি নিয়েও আমরা কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন- মাজারকেন্দ্রিক প্রচুর লোক ঘুরতে আসেন। এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

জেলা প্রশাসক বলেন, সিলেটের অর্থনিতির চাকা গতিশীল হচ্ছে। কাজের সুযোগ বাড়ছে। আরেকটু বাড়াতে চেষ্টা করছি। তবে পর্যটনস্পটের উন্নয়ন শতভাগ সরকার করে না। বিশ্বের কোথাও এটা হয় না। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও পর্যটনখাতে বিনিয়োগ করতে হবে। সরকার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং জনগণকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন- ‘আমরা আগেও ট্যুরিস্ট গাইডদেন প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আবারও ট্যুরিস্ট গাইডদের প্রশিক্ষন দেয়া হবে। এতে করে সেবার মান বাড়বে।’
বহুমুখী এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সিলেটের পর্যটন উন্নয়নে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে মনে করছেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।




