হাউজিং এস্টেটে দিন-দুপুরে কিশোর-কিশোরীর ‘প্রেম’ : জনতার হাতে ধরা
সময় সংগ্রহ

সিলেট নগরীতে ‘প্রেম’ করার সময় স্থানীয় কাউন্সিলর ও জনতার হাতে ধরা খেয়েছেন দুই কিশোর-কিশোরী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু। পরে কিশোরীর বাবাকে খবর দিয়ে এনে তার কাছে মেয়েকে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় কাউন্সিলর কার্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী (কয়েছ লোদী) বৃহস্পতিবার রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন- ‘সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একটি কাজ শেষে আমার কার্যালয়ে ফেরার পথে রাস্তার পাশে স্কুলড্রেস পরিহিত এক কিশোরীকে ঘিরে কয়েকজন কিশোরের জটলা ও উত্তেজনা দেখে সন্দেহ হয় এবং তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এক পর্যায়ে জানা যায়, ওই কিশোরী ও ছেলেদের মধ্যে এক কিশোরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এখানে তারা আড্ডা দিতে এসে তাদের (কিশোর প্রেমিক-প্রেমিকার) মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হলে তারা দু’জন ফোন করে আরও বেশ কয়েকজন ছেলেবন্ধুকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। বন্ধুরা এসে এখানে চরম বিশৃঙ্খল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতি তৈরি করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি কিশোরী’সহ সবাইকে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসি এবং পুলিশ ও স্থানীয় মুরুব্বিয়ানদের খবর দেই। পরে তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি শেষ করে ওই কিশোরীর বাবাকে খবর দিয়ে নিয়ে এসে তার কাছে মেয়েকে হস্তান্তর করি।’
কয়েছ লোদী বলেন- ‘আমার কাছে মনে হয়েছে এরা সবাই ভয়ঙ্কর কোনো কিশোর গ্যাংকের সদস্য। কারণ- প্রেমিক কিশোরের একটি ফোনে কয়েক মিনিটের মধ্যে ২০-২৫টি মোটরসাইকেলে করে আরও ৩০-৩৫ জন কিশোর এসে জড়ো হয়ে গেলো। বিষয়টি সমাজের জন্য ভীতিকর। তাছাড়া ওই কিশোরীর পরনের কাপড়ও ছিলো বেশ আপত্তিকর। তার বাবা এসে মেয়ের এমন অবস্থা দেখে ডুকরে কেঁদে ওঠেন।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে কাউন্সিলর লোদী বলেন- ‘নিজের ছেলে-মেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এসব যদি অভিভাবকরা খেয়াল না করেন তবে তো সন্তানরা খারাপ পথে যাবেই। ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধকে আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি বলেই আজ আমাদের সন্তানরা এমন উচ্ছন্নে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভূমিকাই সবচাইতে বড়।’




