তবুও সিসিকের খোলা ড্রেন : হয়েছে মৃত্যু, বাড়ছে আহতের সংখ্যা
সময় সিলেট ডেস্ক

ড্রেনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও কেবল স্ল্যাব বসানোর অভাবেই ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে না ড্রেনগুলো। সেইসঙ্গে নির্মাণকাজ চলমান বিভিন্ন জায়গায় এলোমেলো অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখতেও দেখা যায়। আবার কোনো কোনো ড্রেন পুরোনো হলেও ময়লা পরিষ্কার করে মুখ খোলা রেখে স্ল্যাব পাশেই ফেলে রাখা হয়েছে। তাই তো রাতের আঁধারে এসব ড্রেন ও নির্মাণসামগ্রী হয়ে উঠে মরণফাঁদ।
সম্প্রসারিত অংশ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়তন ২৬ দশমিক ৫০ বর্গ কি.মি.। আর এ অংশে শতাধিক খোলা ড্রেন। সবগুলোকে মানুষ সড়কের পাশের ফুটপাত হিসেবে ব্যবহার করে হাঁটেন। সেইসঙ্গে নগরের সড়ক সংস্কারের আওতায় কাজ চলমান সড়কে খোলা ড্রেনের সংখ্যা অগণন। আছে এলোমেলো নির্মাণসামগ্রী। তাই তো নির্মানাধিন খোলা ড্রেনে পড়ে প্রাণহানি হয়েছিল কবি আব্দুল বাসিত মোহাম্মদের। আর আহতের তালিকা বেশ দীর্ঘ। এমন অবস্থায় আন্দোলন করে তেমন ফল না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও মিলছে না মুক্তি।
তাই সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিসিকের যাচ্ছেতাই কর্মকাণ্ডে সিলেটের মানুষ অতিষ্ঠ। খোলা ড্রেনগুলো যেন সিসিক মানুষ মারার জন্য ফাঁদ পেতে রেখেছে। অনুরোধ, আন্দোলন কোনো কিছুতেই তাদের কিছু আসে যায় না। সুতরাং প্রশ্ন করতে হয় এগুলো কি মানুষ মারার জন্য ফাঁদ পেতে রাখা?’
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, এসব ড্রেনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও কেবল স্ল্যাব বসানোর অভাবেই ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে না ড্রেনগুলো। সেইসঙ্গে নির্মাণকাজ চলমান বিভিন্ন জায়গায় এলোমেলো অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখতেও দেখা যায়। আবার কোনো কোনো ড্রেন পুরোনো হলেও ময়লা পরিষ্কার করে মুখ খোলা রেখে স্ল্যাব পাশেই ফেলে রাখা হয়েছে। তাই তো রাতের আঁধারে এসব ড্রেন ও নির্মাণসামগ্রী হয়ে উঠে মরণফাঁদ।

তবে এসব অপরিকল্পিত উন্নয়ন কিংবা খোলা ড্রেনের তথ্য জানেন না সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান।
সবশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর নগরের কালীঘাট এলাকায় রাতের আঁধারে সিটি করপোরেশনের ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ড্রেনে পড়ে গুরুতর আহত হন আলোকচিত্রী বাপ্পি ত্রিবেদী। এর আগে সিসিকের অপরিকল্পিত উন্নয়নের জাঁতাকলে পড়ে গুরুতর আহত হন দৈনিক বণিক বার্তার স্টাফ রিপোর্টার দেবাশীষ দেবু এবং এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন ইকবাল মুন্সি। এমনকি কয়েকদিন আগে নগরীর টিলাগড় এলাকায় একটি খোলা ড্রেনে পড়ে গুরুতর আহত হন সিসিকের ফারুক নামের এক কর্মচারীর ছেলে। সিসিকের অপরিকল্পিত উন্নয়নের জাঁতাকলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
তবে যে ঘটনাটি সিলেটবাসীকে নাড়া দিয়েছিল তা হলো কবি ও ছড়াকার আব্দুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যু। সিসিকের নির্মাণাধীন খোলা ড্রেনে পড়ে পেটে রড ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে ক্ষতিপূরণ দাবি করে এবং অরক্ষিত ড্রেনগুলো রক্ষিত করাসহ চারটি বিষয় উল্লেখ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন আইনজীবী গোলাম সোবহান দীপন। এর তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে এবং সিসিকের অরক্ষিত সকল ড্রেন রক্ষিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে অর্ডারের তারিখ দেয়া হয় ২১ সেপ্টেম্বর। পরে সিসিকের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলে হাইকোর্ট সময় প্রদান করেন।

তবে আহত কিংবা নিহত যাই ঘটুক উদাসীন সিসিকের তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই। খোলা ড্রেনগুলোর ব্যাপারে বক্তব্য নিতে সিসিক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোথায় খোলা ড্রেন? আমি খোঁজ নিবো।’




