ছাত্রলীগের নতুন কমিটিকে ‘কালো পতাকা’ দেখিয়ে সিলেটে বিক্ষোভ
সময় সিলেট ডেস্ক

পতাকার আদলে কালো কাপড়ের ছোট ছোট টুকরা। হাতে এই কালো কাপড়ের টুকরা উঁচিয়ে মিছিল ও সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সিলেটে ছাত্রলীগের একটি অংশের নেতাকর্মীরা। তারা সম্প্রতি ঘোষিত সিলেটে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বকে ‘বাণিজ্যিক কমিটি’ বলে দাবি করছেন। এ কমিটির প্রতি অনাস্থা জানাতে তারা ‘কালো পতাকা’ প্রদর্শন করে মিছিল ও সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর কেন্দ্রস্থলের চৌহাট্টা মোড়ে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে নগরীর তালতলা থেকে কালো পতাকা মিছিল করে তারা চৌহাট্টা মোড়ে অবস্থান নেন। এর আগে কমিটি বাতিলের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে সংবাদ সম্মেলন, মানবববন্ধন, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন’সহ প্রতিবাদী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগের ওই অংশ।
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে চৌরাস্তার মোড় নগরীর অন্যতম একটি কেন্দ্রস্থল। চারটি রাস্তার মিলনস্থল চৌহাট্টা মোড়ের ঠিক মাঝখানে কালো পতাকা নিয়ে ছাত্রলীগের অবস্থানকালে নগরীর সব রাস্তায় যানবাহন প্রায় থমকে ছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান চলাকালে জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, রিকাবিবাজার এলাকায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে- সিলেটে প্রায় চার বছর কমিটিবিহীন ছিল ছাত্রলীগ। ১২ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে সিলেট জেলা ও মহানগরের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মো. নাজমুল ইসলামকে জেলার সভাপতি ও রাহেল সিরাজকে সাধারণ সম্পাদক এবং কিশওয়ার ইবনে জাহানকে মহানগরের সভাপতি ও মো. নাঈম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে ওই দিনই ছাত্রলীগের একটি অংশ বিতর্কিত নেতৃত্ব বলে অভিযোগ তোলে।
ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ অংশটি ১৩ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে ‘টাকার বিনিময়ে করা কমিটি’ বাতিল না করা পর্যন্ত লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। একাংশের ধারাবাহিক এই কর্মসূচিতে ‘১ কোটি ২০ লাখ টাকায় সিলেট ছাত্রলীগ নিহত’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করলে সর্বত্র চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ অংশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর ‘ছাত্রলীগের সমর্থক শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে মানববন্ধনও হয়। এরপর ১৮ অক্টোবর নতুন কমিটি নগরীতে একটি মিছিল করলে পাল্টা মিছিল করে কমিটিবিরোধী পক্ষ। এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার কমিটিবিরোধী পক্ষ কালো পতাকা নিয়ে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করল।
বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত চৌহাট্টা মোড়ে কালো পতাকা নিয়ে অবস্থানকালে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সৌরভ জায়গীরদারের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভা হয়। এতে বক্তব্য দেন- জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতা আশফাক আহমদ মাসুদ, শাহেদ সৌমিক, মুহিবুর রহমান, সাহান আহমদ, দীপংকর টিপু ও তানভির আহমদ।
বক্তারা সিলেট ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বকে ‘বাণিজ্যিক কমিটি’ আখ্যা দিয়ে বলেন- ‘টাকায় কেনা কমিটির কাছ থেকে চাঁদাবাজি ছাড়া আর কোনো কর্মকাণ্ড আশা করা যায় না। এ জন্য আমরা সিলেটের ছাত্রলীগকে নিহত বলছি। কালো পতাকা মিছিল ও অবস্থান করে আমরা সিলেটের নিহত ছাত্রলীগকে জীবিত করার আহ্বান জানাই। এ জন্য আমরা নতুন কমিটি বাতিল করে টাকায় দলীয় পদ কেনাবেচার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
২০১৪ সালে গঠিত সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়। নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগের কর্মী খুন হওয়াকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২০ জুলাই গঠিত মহানগরের কমিটি ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণে ওই বছরের ২১ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে সিলেটে কমিটিবিহীন ছিল ছাত্রলীগ।




