সিলেটে ৩১ ইউপিতে আ.লীগের বিদ্রোহী ২৯
স্টাফ রিপোর্টার

ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বিপাকে পড়েছে সিলেট আওয়ামী লীগ। শুরুতে মনোনয়ন দেয়া নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তৃণমূলের পছন্দের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। নির্বাচনের দিন-ক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিদ্রোহ প্রকাশ্য হচ্ছে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারাও বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় বহিষ্কার করেও যেন বিদ্রোহ ঠেকাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। একাধিক বিদ্রোহীতে দেখা দিয়েছে সহিংসতার শঙ্কা। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে সিলেট জেলার তিনটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তৃতীয় ধাপে তিনটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ১৩ জন ও তৃতীয় ধাপে ১৬ জন মিলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোট ২৯ জন। এরমধ্যে ১০ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। বহিষ্কারের তালিকায় আছেন আরো কয়েকজন।
কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছে না তখন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আমজদকে প্রকাশ্যে উপজেলার ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস রহমানের পক্ষে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী হয়েছেন মো. মুল্লুক হোসেন। তিনি ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নৌকা মার্কার সমর্থনে ওই ইউনিয়নে কখনো আলী আমজদকে গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি।
ব্যাপারটি নজরে আসায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলী আমজদকে তিন দিনের ভেতর কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। কিন্তু এ ব্যাপারে আলী আমজদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিদ্রোহ আর বিদ্রোহীর পক্ষে অবস্থান নেয়া এক ইউনিয়নেই নয়, অধিকাংশ জায়গাতেই এমন ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এমনকি সিলেট সদর উপজেলার ৭ নম্বর মোগলগাঁও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিরণ মিয়ার নির্বাচনি প্রচারের গাড়িতে হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচার মিছিল থেকে এ হামলা করা হয়।’
এমন অবস্থায় তৃণমূলের পছন্দকে উপেক্ষা করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ। এমনকি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৬নং দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নে শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিও দেশের সকল গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। সব মিলে অযোগ্য আর তৃণমূলের পছন্দকে উপেক্ষা করে প্রার্থী মনোনীত করায় বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক নেতাকর্মীর। এমন অবস্থায় নির্বাচন ঘিরে বড় কোনো সহিংশতার শঙ্কাও করছেন নেতাকর্মীরা।
তবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির খানের মতে, তৃণমূলের পছন্দের ভিত্তিতেই সকল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
তৃণমূলের পছন্দে প্রার্থী মনোনয়নের পরও বিদ্রোহী কেন, বা স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন কেন এমন প্রশ্নে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির খান বলেন, যারাই দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাচ্ছেন আমরা তাদের পদসহ বহিষ্কার করছি। আর কখনো তারা দলেও ফিরতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে তারা যদি দলের প্রতি মায়া না থাকে তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না। কিন্তু বহিষ্কার করে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করছি।
এদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ১০ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে ১১ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি/ সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজিবাইক, ইঞ্জিনবোট ও স্পিডবোটসমূহের চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ১২ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলও বন্ধ থাকবে বলে পুলিশ জানায়। এছাড়া ১৪ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এমনকি নির্বাচনে যাতে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের ও সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান।




