সিলেট চেম্বার ইস্যুতে সুপ্রীমকোর্টের চেম্বার জজের নয়া আদেশ
স্টাফ রিপোর্টার

সিলেট চেম্বারের দায়িত্ব গ্রহণে এবার আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছে নতুন কমিটি। প্রতিপক্ষের দায়ের করা রীটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ১৫ দিনের জন্য স্থগিতের যে আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদেশ হাইকোর্টের আপীল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করে নতুন আদেশ প্রদান করেন। ফলে নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিবন্ধকতার দূর হওয়ায় মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারা।
জানা গেছে- সিলেট চেম্বারের নতুন প্রেসিডিয়ামের দায়িত্ব গ্রহণ ঠেকাতে গত ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে উচ্চ রীট পিটিশন দায়ের করেন সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে নির্বাচিত পরিচালক ও সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া আব্দুর রহমান জামিল। রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বারের নতুন কমিটির কার্যক্রমের উপর ১৫ দিনের স্থিতাবস্থা জারি করেন উচ্চ আদালত। প্রতিপক্ষের করা রীটের বিরুদ্ধে সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে আবেদন করেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রি’র নবনির্বাচিত সভাপতি। এই আবেদনের শুনানী করেন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের চেম্বার জজ। শোনানী শেষে পরিচালক আব্দুর রহমান জামিলের করা রীটের স্থগিতাদেশ দেন এবং রীট পিটিশনটি ফুল বেঞ্চে বদলীর আদেশ দেন। আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী মো. আলী আযম তার স্বাক্ষরিত প্যাডে আদালতের এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়- গত ২২ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন (নং-১৩১০৯) স্থগিত করে আগামি ২৪ জানুয়ারি ফুল বেঞ্চে নিয়মিত হিসেবে শোনানীর আদেশ দেন। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আব্দুর রহমান জামিলের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের স্থগিতাদেশ জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালককে (বাণিজ্য সংস্থা) নির্দেশ দেন আদালত। রীটের শুনানি শেষে বুধবার এই নির্দেশনা দেন বিচারপতি এম এনায়েতুর রহমান ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ।
এদিকে নতুন কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশের উপর সোমবার নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির করা আবেদনের শোনানীর কারণে সিলেট চেম্বারের প্রেসিডিয়াম গঠনে বাধা অনেকটাই কেটে গেছে।
গত ১১ ডিসেম্বর সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন হয়। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেল সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে ১১ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হন। গত ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে থেকে সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান জামিল। তবে বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে জামিল ও তার প্যানেলের সহ-সভাপতি প্রার্থী হুমায়ুন আহমদের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। প্রতিবাদে প্রেসিডিয়াম নির্বাচন বর্জন করেন সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে জয়ী ১১ পরিচালক।
একপক্ষের বর্জনের পর ওই রাতেই সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থী তাহমিন আহমদকে সভাপতি এবং সহ-সভাপতি পদে ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ ও আতিক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ২০ ডিসেম্বর চেম্বারের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের (বাণিজ্য সংস্থা) কাছে আবেদন করেন আব্দুর রহমান জামিল। পরে তিনি চেম্বার নির্বাচন-পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর অন্তর্র্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্থান্তরসহ নির্বাচন-পরবর্তী সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।




