‘জ্যোতির্ময়ী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন : নারী জাগরণে এক জ্যোতির্ময়ী সৈয়দা জেবুন্নেছা হক
স্টাফ রিপোর্টার

সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছা হককে নারী জাগরণের উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সিলেটের বিশিষ্টজনেরা। সৈয়দা জেবুন্নেছা হকের কর্মময় জীবন নিয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আ ফ ম সাঈদ প্রণীত গ্রন্থ জ্যোতির্ময়ী’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আখ্যা দিয়েছেন। এ সময় তারা গ্রন্থটি সিলেটের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে সরবরাহের আহŸান জানান।
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট স্টেশন ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামীমা চৌধুরী।
এ সময় বক্তারা বলেন- ‘নারী জাগরণের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সৈয়দা জেবুন্নেছা হক। একটা সময় ছিল যখন নারীরা সিলেটে প্রকাশ্যে রাজপথে মিছিল করতেন না। ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহিলা সংগঠনগুলো চলতো পুরুষ রাজনীতিবিদদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়স্বজন দিয়ে। স্থানীয় রাজনীতির সেই ধারা বদলে দিয়েছেন সৈয়দা জেবুন্নেছা হক।’
বক্তারা আরও বলেন- সিলেটের অধিকাংশ মানুষের কাছে ‘ভাবী’ হিসেবে পরিচিত সৈয়দা জেবুন্নেছা হক বৃহত্তর সিলেটের নারী অধিকারের আন্দোলন ও রাজনীতির এক জীবন্ত-কিংবদন্তি। যার বর্ণাঢ্য জীবন জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির প্রতিটি সংগ্রামে। তাঁর কর্মময় জীবন নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ ‘জ্যোতির্ময়ী’ পাঠে নতুন প্রজন্ম উপকৃত হবে। গ্রন্থটি সিলেটের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে প্রদানের আহ্বান জানাই।
তারা বলেন- ‘স্বামী মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হকের হাত ধরে রাজনীতিতে নামলেও পরে স্থানীয় রাজনীতিতে নারীদের সংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয় মহিলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান তিনি। পাশাপাশি সক্রিয় থাকেন আওয়ামী লীগের সব কর্মসূচিতে। দলের একনিষ্ট কর্মী হিসেবে দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পুরস্কার হিসেবে তিনি দুইবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ রেনু ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক প্রণবকান্তি দেব এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সিলেট স্টেশন ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নূর উদ্দিন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল-আজাদ, সিলেট স্টেশন ক্লাবের সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম, সিলেট রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান জামিল। শুরুতেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন গ্রন্থের লেখক আ ফ ম সাঈদ।
অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন- ‘জেবুন্নেছা হকের হাত ধরেই আমাদের রাজনীতির উত্থান। তিনি আমাদের সন্তানের মতো ছায়া দিয়েছেন। সিলেটের অনেক রাজনৈতিক কর্মী জেবুন্নেছা হকের কাছে ঋণী।’
জেবুন্নেছা হকের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সিটি কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা। তিনি বলেন- ‘মায়েরা ঘরে তার সন্তানকে লালন-পালন করেন। তাদের বড় করে তুলেন পরম-স্নেহ-মমতা দিয়ে। মা আমাদেরকেও সেভাবে লালন-পালন করেছেন। তবে আমার মা অন্য মায়েদের চেয়ে আলাদা। কারণ তিনি নিজের ছেলে মেয়েদের পাশাপাশি বাইরে অন্যান্য সন্তানদেরও মায়ের মতোই ছায়া দিয়েছেন।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, পিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট স্টেশন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট শাহ মশাহিদ আলী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী রুহেল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সালমা বাসিত, সিলেট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমাতুজ্জোহরা রওশন জেবিন রুবা, সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আফতাব উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কবির উদ্দিন, আজমল আলী, শমসের জামাল, মজির উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ পলাশ, নূরে আলম সিরাজী, রাজ্জাক হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সোয়েব আহমদ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুল আলম নাসির, সাবেক সভাপতি আব্দুল বাতিন ফয়সল ও মামুন হাসান, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি দিগেন সিংহ, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, শিক্ষক সঞ্জয় নাথ সঞ্জু, সাংবাদিক সুমন কুমার দাস, ইয়াহইয়া ফজল, নৌসাদ আহমদ চৌধুরী, মাধব কর্মকার, শাকিল আহমদ সোহাগ, আবুবকর আল আমীন, সিলেট স্টেশন ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য হারুন আল রশীদ দিপু, সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, ফজলে এলাহি ডালিম, জুম্মা আব্বাস রাজু, তানজিনা মোমিন, মিজানুর রহমান, জামাল ইয়াকুব, বিজিত চৌধুরী, মিলাদ আহমদ, গোলাম জাবির চৌধুরী, শাজাহান আহমদ, আফরোজ আহমদ, সানিলা আব্বাস, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মাধুরী গুন, সৈয়দা নাজনীন সুলতানা, অ্যাডভোকেট রাশিদা সাঈদা লাকী, অ্যাডভোকেট সাবানা ইসলাম, হাসিনা মহিউদ্দিন, বীনা সরকার, শামলী দাস, হাসিনা আক্তার ও শাহিদা তালুকদার, সমাজকর্মী সালমা পারভীন ও টিনা জান্নাত।




