‘মামলার সাক্ষী হওয়ায়’ খুন হন ইজারাদার আজিজ : মানববন্ধনে বক্তারা
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের পৌর শহরের শিয়ালমারা হাওরে একটি বিলের ইজারাদার আব্দুল আজিজকে হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের ওয়েজখালী এলাকায় সাধারণ মানুষের ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- ‘৮ বছর আগের একটি হত্যার মামলায় আব্দুল আজিজ সাক্ষী থাকায় তাকে খুন করা হয়েছে।’
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- ‘আব্দুল আজিজ ছিলেন একজন ধার্মিক মানুষ, তার কোনো শত্রু ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালে ওয়েজখালী এলাকায় মসজিদের ভিতরে ঈদের দিন ওয়ারিশ আলীকে হত্যা করে ওই এলাকার রমিজ গং তার লোকেরা। এ ঘটনায় মামলা হলে এ মামলায় ১০ নম্বর সাক্ষী ছিলেন খুন হওয়া আব্দুল আজিজ। সেই মামলায় রায়ও ছিল এ বছরের চলতি মাসেই।
‘এ নিয়ে রমিজ গং আব্দুল আজিজকে মামলার সাক্ষী না দেওয়ার জন্য হুমকিও দিলেও আব্দুল আজিজ মামলা সাক্ষী হবেন বলে জানান। গেল এক বছর আগে ইজারাদার আব্দুল আজিজের সাথে বিলে শেয়ার ব্যবসায় নাম লিখান রমিজ গং, যার কারণে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করে কৌশলে তাকে খুন করা হয়েছে। আমরা তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।’
বক্তারা ২০১৪ সালের হত্যার ঘটনা তুলে ধরে বলেন- ‘ওয়ারিশ আলীকে হত্যার প্রধান আসামি ছিলেন ওয়েজখালী এলাকার খুরশেদ আলম ও রমিজ গং। কিন্তু খুরশেদ আলম পুলিশ চোখ ফাঁকি দিয়ে বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করায় পুলিশের ভেরিফিকেশন নিয়ে আমাদের চিন্তা হয়; এরা কিভাবে দেশ ত্যাগ করতে পারে?
‘কিন্তু রমিজ গং ও তার লোকেরা রাতের আধারে আব্দুল আজিজকে তারই মাছ ধরার ডুবায় নিয়ে গলাকেটে হত্যা করে, আমরা এসব ঘটনার শাস্তি চাই।’
নিহতের ছোট ছেলে ওয়েস আহমেদ বলেন- ‘আমার বাবা একজন শান্ত লোক ছিলেন। তিনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি। কিন্তু আমার বাবা ২০১৪ সালের হত্যা মামলার সাক্ষী ছিলেন। যার কারণে প্রতিনিয়ত রমিজ গং ও তার লোকেরা বাবাকে সাক্ষী না দিতে হুমকি দিয়ে আসতো। এক বছর আগে সে বাবার সাথে বিলে ব্যবসা শুরু করে। সহজ সরল হওয়ার আমার বাবা বুঝতে পারেনি, যে তাকে মারা ছক আঁকছে তারা।
‘আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই, আপনারা যে দ্রুততার সাথে প্রধান আসামিসহ বাকি দুইজনকে আটক করেছেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই।’
এদিকে, এ ঘটনায় খুন হওয়া আব্দুল আজিজের বড় ছেলে আবুল হাসনাত মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- ওয়েজখালী এলাকার ও বিলের অংশীদার রমিজ মিয়া, আজিজ মিয়া, মহিনুর মিয়া।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন- ‘মামলা হয়েছে। তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সুরতহালে নিহত ব্যক্তির শরীরে ১১টি জখম পাওয়া গিয়েছে এবং তার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত আছেন তাদের আটক করা হবে।’




