বিশ্বনাথে চাচার বসতঘর নির্মাণে ভাতিজাদের বাধা প্রদানের অভিযোগ
সময় সিলেট ডট কম

সিলেটের বিশ্বনাথের বাইশঘরের নাজিম উল্লাহ (৭৫) নামের আপন চাচাকে বসতঘর নির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছেন ভাতিজারা। এছাড়াও ওই চাচার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন তারা। প্রতিকার ও আইনী সহযোগীতা চেয়ে ভাতিজাদের অভিযুক্ত করে সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নাজিম উল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি বাইশঘর গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে। প্রতিপক্ষরা হলেন- নাজিম উল্লাহর আপন ভাই মৃত রাজিদ উল্লাহর ছেলে সমশের আহমদ সুমন (৩৫) ও মশাহিদ মিয়া (৩৭) এবং অপর ভাই আজিদ উল্লাহর ছেলে রিপন মিয়া (৪০)।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন- পৈতৃক সম্পত্তি একত্রে থাকায় মৌখিকভাবে ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে ভোগদখল করছেন তারা। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি উভয় পক্ষ বৈঠকের মাধ্যমে চান্দভরাং মৌজার ১০৩ নং জেএলের ৬৮ নং বিএস খতিয়ানের ১০৯১ ও ১০৯৮ নং দাগের ৩৮ বসত ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাতিজারা তাদের চাচা নাজিম উল্লাহকে ওই জায়গাও নির্ধারণ করে দেন।
এরপর সেখানে পাকা দালান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু এর ১৯দিন পর ঘরে টিন লাগানোর সময় হঠাৎ ভাতিজারা তাকে (চাচাকে) ঘর নির্মাণে বাঁধা দেন এবং সিলেট আদালতে মামলা করেন। গত ২৪ জানুয়ারি ওই তিন ভাতিজা বাদী হয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন, (মামলা নং ৫/২০২২ইং)। পরবর্তিতে এনিয়ে গ্রামের পঞ্চায়েগণের উপস্থিতিতে দু’বার সালিশ বৈঠক করা হয়।
সর্বশেষ গত বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চায়েতের রায় না মানার সিদ্বান্ত জানানোর পর নিরুপায় হয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভোক্তভূগী নাজিম উদ্দিন। পুলিশি সহযোগীতা চেয়ে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন- জায়গা নির্ধারণ করে দিয়ে ঘর উঠানোর পর সেই ভাতিজারাই আবার ঘরের নির্মাণ কাজে বাঁধা এবং মিথ্যা মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত ভাতিজা সমশের আহমদ সুমন ও রিপন মিয়া বলেন- যে শর্তে বাটোয়ারা করা হয়েছিল তা তাদের চাচা পুরন না করায় নির্মাণকাজে তারা বাঁধা দিয়েছেন।
গ্রামের সালিশ ব্যক্তিত্ব হাজী রুশমত আলী, তজম্মুল আলী ও সমুজ মিয়া বলেন- পঞ্চায়েতের কথা না মানায় দীর্ঘ চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান বলেন- বিষয়টি তার জানা নেই। তবে, এ বিষয়ে যতটুকু সহযোগীতা প্রয়োজন তা তিনি করবেন।




