সিসিক পানি শাখার ২০ কোটি টাকার প্রকল্পে ধীরগতি : সড়কে দুর্ভোগ
অতিথি সংবাদদাতা

মো. ফয়ছল আলম : বিকেল তখন চারটা। নগরীর উপশহর থেকে বন্দরবাজার যাবার জন্য নিজের মোটর সাইকেলে রওয়ানা হন এক কর্মজীবি। উপশহর পয়েন্টে আসার পর দেখেন দু’দিক থেকে পুরো সড়ক বন্ধ। দীর্ঘ সারি গাড়ির। অগত্যা উপায় না দেখে তাৎক্ষণিক মোটরবাইক উপশহর ই ডি ব্লকের ভিতর দিয়ে যতরপুর মিরাবাজার হয়ে আসতে চান। ডি ব্লকের ৩০ নম্বর সড়কে গিয়ে দেখেন যতরপুর ব্রিজের যানজট সেখানকার মোড় পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। আবারও বাইক ঘুরিয়ে যান শিবগঞ্জ অভিমুখে। সেখানে যেতেও বিপত্তি। বি ব্লকের পুরো সড়ক জুড়েই গাছের অংশ, ড্রেনের মাটি আর নানা জঞ্জাল। কোনো রকম শিবগঞ্জ হয়ে মিরাবাজার পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেও নাইওরপুল পয়েন্টের যানজটের কারণে ফের বাইক ঘুরিয়ে মিরাবাজার আগপাড়া হয়ে কুমারপাড়া সড়কে উঠে বিকল্প সড়কে বন্দর বাজার পৌঁছেন।
এ চিত্র শুধু উপরোক্ত সড়কগুলোতে নয়, বর্তমানে পুরো নগরজুড়েই উন্নয়ন বিড়ম্বনার এমন চিত্র চোখে পড়ে। যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কেই কাটছে যাত্রীদের। ফলে রিকশা ভাড়াও বাড়িয়ে নিচ্ছেন চালকরা। অফিস কিংবা হাসপাতালগামী অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকছেন। অলিগলিতেও একই চিত্র। নগর কর্র্তৃপক্ষের এ উন্নয়নযজ্ঞে মাঠে থেকে সরাসরি এসব উন্নয়ন কাজ কিংবা মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করার দায়িত্বে থাকা অর্ধশত প্রকৌশলী আর কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্টরাও যেন উদাসীন হয়ে পড়েছেন। ফলে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে বৈ কমছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে— সিলেট নগরের নাইওরপুল পয়েন্টে বিশাল গর্ত করে পানির লাইন মেরামত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেখানে কোনো ধরণের নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। রাস্তার মাঝখানেই পাথর ও মাটি রাখা। ফলে তিনদিক থেকে আসা গাড়ির দীর্ঘ সারি সামাল দিতে গিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে।
নগর সুত্রে জানা গেছে— এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আরএফএল এর ঠিকাদারী সংস্থা প্রপার্টি ডেভোলাপমেন্ট নামের একটি সংস্থা। পানি শাখার ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কাজ হচ্ছে। যাতে নাইওরপুল থেকে টিলাগড় সড়কের দু’পাশের পাইপলাইন বসানোসহ তিনটি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে— দু সপ্তাহ আগে এখানে কাজ শেষ পর্যায়ে এলেও নতুন করে ত্রুটি দেখা দেয়ায় আবারও কাজ করা হচ্ছে।
এ-তো একটি প্রকল্পের কথা। একইভাবে নগরের বাস্তবায়নাধীন অন্য প্রকল্পগুলোতেও একই অবস্থা। সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে সুরমা পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে বিভাজন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় তিন মাস আগে। পরীক্ষামুলকভাবে বাঁশ দিয়ে কিছুদিন রাখার পর পুরোদমে কাজ শুরু হয় বিভাজনের। কিন্ত সে প্রক্রিয়ায়ও যেন ভাটা পড়েছে। এখন আর কাজ হতে দেখা যায়না। ফলে এখানেও দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনা লেগেই আছে। নগরীর ভেতরকার অবস্থার মতো গলিপথে আরও ভয়ংকর। পাড়াগুলোতে নির্মাণ কাজে যেন এক ধরণের জবরদস্তিই চলছে সাধারণ মানুষের উপর। কখন কোন সড়ক বন্ধ হয় তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কোনো নির্দেশনাও থাকছে না। কয়েকদিন আগে এরকম অব্যবস্থাপনার খবর পেয়ে মেয়র সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করে আসেন। কিন্ত মেয়র ফিরে আসার পর অবস্থা যেই সেই-ই।
এসব দুর্ভোগ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন— নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়টি আপনাদের মতো আমরাও প্রত্যক্ষ করছি। এ বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা বার বার চিঠি দিচ্ছি, দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার জন্য। ঠিকাদারদের মধ্যে যারা ঠিকমতো কাজ করতে পারবে না, নাগরিক দুর্ভোগ বাড়াবে, আমরা তাদের পারফরমেন্স বাবদ জমা রাখা জামানতের টাকা আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।




