গ্যাসের চুলা ছেড়ে কাপড় শুকানো, ভয়াবহ আগুন, বৃদ্ধার মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটের গোয়াবাড়ি এলাকায় কলোনিতে আগুনের উৎপত্তি গ্যাসের চুলা থেকে। গ্যাসের চুলা ছেড়ে কাপড় শুকানোর কারণেই আগুন লেগে যায়।
এই আগুণে ঘরের ভেতরেই পুড়ে মারা গেছেন এক বৃদ্ধা। পুড়ে গেছে ৭টি ঘর। শনিবার শনিবার (৫ মার্চ) বিকেলে সিলেটের আখথালিয়া গোয়াবাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত শোভারানী চন্দ (৮০) সুনামগঞ্জের মৃত সতিশ চন্দের স্ত্রী। তিনি ছেলে ও ছেলে বউয়ের সাথে আখালিয়ার ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। পক্ষাগাতগ্রস্ত অবস্থায় শোভারানী দীর্ঘদিন ধরে বিছনাবন্দি অবস্থায় ছিলেন।
জানা যায়— শনিবার বিকেলে গোয়াকবাড়ি মোহনা আবাসিক এলাকার একটি কলোনির রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা থেকে আগুন লেগে যায়। ওই কলোনি সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মির্জা জামাল পাশার মালিকানাধীন। এখানে ৭টি পরিবার ভাড়া থাকে। আগুনে সবগুলো ঘরই পুড়ে যায়।
সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন— এখানে পাশপাশি ৭টি পরিবার রয়েছে। একটি বাসায় গ্যাসের চুলা ছেড়ে ভেজা কাপড় শুকানো হচ্ছিলো। হঠাৎ করেই একটি কাপড়ে আগুন লেগে যায়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি কারো নজরে না পরায় আগুন আশপাশের ঘরেও ছড়িয়ে পরে।
তিনি বলেন— আগুন দেখে বাড়িগুলো লোকজন দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেও শোভা রানী বের হতে পারেননি। তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্থ ছিলেন। ফলে ঘরের ভেতরেই তিনি পুড়ে মারা যান।
গ্যাসের চুলায় কাপড় শুকানো থেকেই আগুনের উৎপত্তি জানিয়ে কলোনির মালিক মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা বলেন— আগুনে ৭টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে গেছে। আমার ঘরগুলোও পটুড়ে গেছে। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভুইয়া বলেন— বিকেলে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই একজন বৃদ্ধা আগুনে পুড়ে মারা যান এবং ৭টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
নিহত বৃদ্ধার মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।




