অভিমানের আভাস : জেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে আরিফের প্রার্থীতা প্রত্যাহার
সময় সিলেট ডেস্ক

নানা নাটকীয়তার পর সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।
কেন্দ্রীয় নির্দেশে তিনি সভাপতি পদ থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কি কারণে কেন্দ্র এমন নির্দেশনা দিলো তা বলেননি বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।
আজ মঙ্গলবার নগরীর এক কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আরিফ। এ সময় বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ বলেন— এক খাঁটি বিএনপি কর্মী হিসেবে আমি সভাপতি পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেই। মাত্র এক সপ্তাহের পদচারণায় জেলার ১৮টি সাংগঠনিক অঞ্চলে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরী করতে সক্ষম হই। আমি যে সাড়া পেয়েছি তা যেন নবান্নের উৎসবের মতো। এ অবস্থাতেও কেন্দ্রের নির্দেশে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করছি। আরিফ বলেন— ‘ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’ এই নীতি মেনেই প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সিসিক মেয়র বলেন— দেশের মানুষ যখন বলে সিলেটের মেয়র বিএনপির আরিফুল, তখন বাগানে ফুটে বিএনপি নামক ফুল। আমি সেই বাগানের মালি হয়েই কাজ করে যেতে চাই। আমার শক্তি ও সাহসের বাতিঘর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমান।
তিনি বলেন— ‘আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় হতে ছাত্রদল থেকে শুরু করে আজ তিলে তিলে ভালোমন্দ চড়াই-উতরাই পার করে চলা এক বিএনপি কর্মী। আমার চলার সাথী সিলেটের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা, দলীয় শৃঙ্খলা ও আপোষহীনভাবে কমান্ড মেনে চলার দৃঢ়তা আমার পাথেয়।
আরিফ আরও বলেন— ‘বিএনপি দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। সেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমার কাছে নীতিনির্ধারণী বহুজাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় একজন ব্যক্তির চেয়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আদর্শিক চেতনার নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়া বলে গেছেন- ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ। তাই সেই মতের সিপাহী হয়ে এর বাইরে আমার এক কদমও নেই এবং চলতে পারে না। এমতাবস্থায় দলের হাইকমান্ড মনে করেছেন একজন মেয়র হয়ে সিলেটের যে প্রভুত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আপনাদের সহযোগিতায় নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিশ্রম করার চেষ্টা করছি -সেই লক্ষ্যে আরও মনোনিবেশ করে আগামীতে দলের স্বার্থে বড় কোনো কাজের জন্য প্রস্তুত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন আলোকে আমি মনে করি- বিএনপি আমাকে অনেক দিয়েছে, একজন ছাত্রদল কর্মী করে আজকের মেয়র আরিফ।
লিখিত বক্তব্য শেষে আরিফ চেয়ার ছেড়ে উঠে যান। সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের সুযোগ রাখেন নি। তবে লিখিত বক্তব্য চলাকালে যেন তাঁর অভিমানি কন্ঠেরই প্রতিধ্বনির আভাস পাওয়া যায়।




