শামসুদ্দিন হাসপাতালে ফের চালু হচ্ছে সার্জারী ইউনিট
সময় সিলেট ডেস্ক

দীর্ঘ ২ বছর পর রোগী ভর্তি, ওটি (অস্ত্রোপচার), জরুরী বিভাগ সহ সার্জারী ইউনিট চালু করতে যাচ্ছে সিলেটের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। আগামী সপ্তাহে (২ এপ্রিল) থেকে এই সেবা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ২০ মার্চ থেকে হাসপাতালটিতে ফের চালু করা হয়েছে বহির্বিভাগ সেবা। সেখানে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী সেবা নিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। তবে পাশাপাশি করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকবে।
দেশে ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রকোপ বেড়ে যায়। মানুষের মাঝে বিরাজ করে এক অজানা আতংক। সিলেটেও একের পর এক করোনা রোগী ধরা পড়ে। হুঁ হুঁ করে বাড়তে থাকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অনেক সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল করোনা রোগী থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করে। এমন সময়ে করোনা চিকিৎসা নিয়ে পড়েন বিপাকে পড়েন সিলেটের মানুষ। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুষ্ঠু সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে সিলেটের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২ বছরে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশী করোনা আক্রান্ত রোগীকে সেবা দিয়েছে হাসপাতালটি। সিলেট বিভাগের করোনা রোগীদের একমাত্র আশ্রয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল সিলেটের শামসুদ্দিন হাসপাতাল।
সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও বর্তমানে করোনার সংক্রমণ নিম্নগামী থাকায় শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ফের চালু হয়েছে বহির্বিভাগ সেবা। ২০মার্চ সকাল হতে বহিবিভাগে রোগী দেখা শুরু হয়েছে। পূর্বের ন্যায় বহির্বিভাগের সকল বিভাগেই চিকিৎসা সেবা চালু করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আউটডোর সেবা চালু হওয়ায় প্রতিদিন সকাল ৮টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোগী দেখছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ।
শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন— সোমবার রাত পর্যন্ত শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৫জন রোগী ভর্তি আছেন।এরমধ্যে ৪ করোনা পজিটিভি ও ১ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ২ জন আইসিইউতে রয়েছেন। ভর্তি সবার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভাল আছে।
তিনি জানান— বর্তমানে করোনা রোগীর চাপ খুব কম থাকায় ২০ মার্চ থেকে ফের বর্হিবিভাগ সেবা চালু হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে বর্হিবিভাগ সেবা চালুর ১ মাসের মাথায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারীর শুরুতেই আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। বহির্বিভাগে প্রতিদিন সকাল থেকে মেডিসিন, সার্জারী, অর্থোপেডিক, গাইনী, ডেন্টাল সহ কয়েকটি রোগের সেবা দেয়া হচ্ছে। শীঘ্রই জরুরী বিভাগ, রোগী ভর্তি ও অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ডা. মিজানুর রহমান বলেন— দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক যন্ত্রপাতি মেরামত এবং পরিবর্তন করা লাগতে পারে। এ নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। আমাদের প্রত্যাশা ২ এপ্রিল থেকেই আমরা রোগী ভর্তি সহ সার্জারী ইউনিট চালু করতে পারবো। পাশাপাশি করোনা রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকবে।




