মালয়েশিয়ায় রমজান মাস জুড়ে বিশেষ আয়োজন
বিশেষ সংবাদদাতা

সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান ঘিরে থাকে বিশেষ আয়োজন। এ আয়োজন চলে মালয়েশিয়ার শাহ আলম, পেনাং, কোয়ান্তান, মেলাকাসহ প্রতিটি রাজ্যে। এমনকি মারদেকা মাঠেও নেয়া হয় ইফতারের বিশেষ উদ্যোগ। তবে দীর্ঘ দুই বছরপর করোনা মহামারির কারণে এ আয়োজনে ভাটা পড়ে। ঘরে বসে কাটাতে হয়েছে রমজানের বিশেষ আয়োজন।
এ বছর করোনার আক্রান্ত চলমান থাকলেও বিধি নিষেধ মেনে আবারও বরকতময় মাসের বিশেষ আয়োজনে ভাটা পড়েনি। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারিভাবে ফ্রি ইফতারের ব্যবস্থায়ও কমতি নেই। ফ্রি ইফতার ধনী-গরিব সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। এ যেন আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার বড় আয়োজন।
এদিকে, দুই রমজান প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব পুত্রজায়ার রমজান বাজার পরিদর্শন করেছেন। বাজারের চারপাশে ঘোরাঘুরি করার সময়, বাজারের দর্শনার্থী এবং স্টল অপারেটরদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) মেনে চলার প্রশংসা করেছেন।
এদিকে, সোমবার মালয়েশিয়ার পিং-সিটি পুত্রাযায়ার রমজান বাজার পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তুন ডা. মাহাথির মোহাম্মদ।
এদিকে, স্থানীয়রা ইফতার করেন বিভিন্ন প্রকারের হাতে বানানো পিঠা, হালুয়া জাতীয় নাশতা, সাদা ভাত, ফলমূলসহ মালয়েশিয়ান খাবার দিয়ে। সঙ্গে থাকে আম, তরমুজ, বাঙ্গি, কলা, পেঁপে, আপেল, আঙুর, কমলাসহ নানা রকম মালয়েশিয়ান ফল।
এ মাসে বেশ অতিথিপরায়ণ হয়ে ওঠেন মালয়েশিয়ানরা। রমজানে মালয়েশিয়াতে সরকারি অফিস, আদালত স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ছুটি হয়। ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড় ঘোষণা করে শপিংমলগুলো। রোজার দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়ে যায় কেনাকাটার ধুম।
মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা রমজান পালন করেন অনেকটা দেশীয় আমেজে। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়ায় রমজানে শ্রমিকদের নামাজ পড়ার ও রোজা রাখার সুযোগ করে দেয়া হয়। মসজিদগুলোতে বিনামূল্যে ইফতারির সুযোগ থাকে। মসজিদে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়া হয়।
মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা রমজান মাসে ইফতার করেন দেশীয় খাবার দিয়েই। বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলোতে দেশীয় ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে ইফতারি বানানো হয়। ইফতারিতে খেজুর, জিলাপি, সরবত, জুস, হালিম, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, লাচ্চিসহ নানা প্রকারের খাবার রাখা হয়। বাংলাদেশিরা যেখানে থাকেন সেখানেই একসঙ্গে ইফতার করেন। তাই মালয়েশিয়ানদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদের আয়োজনটা বড় হয়। মালয়েশিয়ানরা অভিভূত হয় বাঙালিদের ইফতারির বিশাল আয়োজন দেখে।
রমজানে মুসলমানদের দিনে প্রকাশ্যে খাওয়া মালয়েশিয়ার আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। প্রতিবছর এ অপরাধে আটক হন অনেকে। এ ছাড়া পুরো রমজানে সরকারি নজরদারিতে জিনিসপত্রের দাম অন্যান্য সময়ের থেকে কম রাখা হয়। এ মাসে মসজিদগুলোতে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যায়।
ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায়। নামাজের পরে কোরআন তেলাওয়াত করতে পছন্দ করেন মালয়েশিয়ানরা। মসজিদে মসজিদে ইফতারিতে বিনামূল্যে শরবত ও বুবুর বা নরম খিচুড়ির ব্যবস্থা থাকে।




