জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট কলেজে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা
স্টাফ রিপোর্টার

জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে (জেসিপিএসসি) মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেসিপিএসসি’র মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, সিলেট এরিয়ার কমান্ডার ও জেসিপিএসসির প্রধান পৃষ্ঠপোষক মেজর জেনারেল হামিদুল হক (এনএসডব্লিউসি, পিএসসি)।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান কর্ণেল এডমিন কর্ণেল সোহেল উদ্দিন পাঠান, পিবিজিএম, বিজিবিএম, পিএসসি।
কর্মশালায় সিলেট সেনানিবাস, সিলেট এরিয়ার ৬৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ডিফেন্স কেয়ার একাডেমি ঢাকা, অদম্য ডিফেন্স ও সোলজার্স একাডেমি সিলেট এবং জেসিপিএসসির ২জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিএমএ অফিসার্স ক্যাডেট বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীতে যোগদানের বিভিন্ন ধাপ, নিয়ম-কানুন ও তাদের অভিজ্ঞতা উপস্থাপনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেসিপিএসসির প্রাক্তন শিক্ষার্থী ৮২তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের অফিসার্স ক্যাডেট মোস্তফা মঞ্জুরুল আলম নিহাল ও ৮৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের অফিসার্স ক্যাডেট মো. রাকিব আহমেদ চৌধুরী তাদের অভিজ্ঞতা, সেনাবাহিনীর চাকরির বাস্তবতা তুলে ধরেন। ঢাকাস্থ ডিফেন্স কেয়ার একাডেমির স্বত্বাধিকারী ও ৪৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের প্রাক্তন অফিসার ক্যাডেট মো. কামরুল হাসান শাহিন বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীতে যোগদানের শর্তাবলী, কৌশল, পরীক্ষার পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের করণীয় বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন।
এছাড়া সিলেট সেনানিবাসের ৬৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর আহমাদুর রহমান ও ১৫৫ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানির অধিনায়ক মেজর শামসুন্নাহার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, কর্মপন্থা, ব্যক্তিত্বপূর্ণ জীবন, নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকটি অধিবেশন শেষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন উপস্থাপকবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন— ‘বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী দেশমাতৃকার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। এই পেশা শুধু মানুষকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করে না বরং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভ, সুস্থ ও সুঠাম গড়ন, ব্যক্তিত্ব অর্জন এবং সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন সফল মানুষ হিসেবে পরিচিতি দেয়।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন— ‘তোমাদেরকে এখনই ভবিষ্যত লক্ষ্য স্থির করে অগ্রসর হতে হবে। সেজন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অন্য পেশার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি পেশা হিসেবে নির্বাচন করতে পারো। তোমাদেরকে ভালো ফলাফল অর্জন করে একজন সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে জেসিপিএসসির অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান, পিএসসি বলেন, মাতৃভূমি ও জনগণের জীবন মানের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান; সর্বোপরি বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী সর্বদা নিয়োজিত।
অনুষ্ঠানের আলোচকবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন— ‘বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী হতে পারে তোমাদের জন্য একটি আদর্শ পেশা। তাই তোমাদেরকে ভালো ফলাফল অর্জনসহ মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন আদর্শ মানুষ হতে হবে। তাহলেই মানুষ হিসেবে তুমি হবে সফল, সার্থক ও ব্যক্তিত্ববান।’
অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল হান্নান, আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অধ্যাপক মো. লাহিন উদ্দিন।




