সিলেটে রাতভর বৃষ্টি : নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে
সময় সিলেট ডেস্ক

সিলেটে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবারও সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে সিলেট দিয়ে প্রবাহিত হওয়া সুরমা নদীর দুটি পয়েন্টে এবং লুভা ও সারী নদীর পানি বেড়েছে। তবে কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে এবং ধলাই নদের পানি কিছুটা কমেছে।
গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আজ সকাল নয়টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদ-নদীর পানির পরিমাপের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে— সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার তুলনায় আজ সকাল নয়টায় দশমিক শূন্য ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৯ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট পয়েন্টে পানি দশমিক শূন্য ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ১০ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে পানি গত দিনের তুলনায় দশমিক ১০ সেন্টিমিটার কমেছে। নদীর শেওলনা পয়েন্টে পানি কমেছে দশমিক শূন্য ১ সেন্টিমিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে গতকালের মতো ১০ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটারে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। শেরপুর পয়েন্টে পানি গতকাল সন্ধ্যার তুলনায় দশমকি ১ সেন্টিমিটার কমে ৭ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
লুভা নদীর লুভাছড়া পয়েন্টে পানি গতকালের তুলনায় দশমিক শূন্য ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ১০ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদের ইসলামপুর পয়েন্টে পানি গতকালের তুলনায় কমেছে দশমিক ১০ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন— বৃষ্টির প্রভাবে পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে সেটি বিপৎসম নয়। বৃষ্টি কমে এলে পানি কমে যাবে।
এদিকে আজ সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে— বৃষ্টির প্রভাবে নতুন করে কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। তবে রাতভর বৃষ্টির কারণে নগরের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। স্থানীয় লোকজন বলছেন— দুই দফা বন্যার পর তাঁদের আতঙ্ক বেড়ে গেছে। এ কারণে অনেকেই এখনো বাড়ির বিভিন্ন আসবাব উঁচু জায়গাতই তুলে রেখেছেন। আবার অনেকে বৃষ্টি দেখে বাড়িঘর গুছানোও আপাতত বন্ধ রেখেছেন।
নগরীর ছড়ার পাড় এলাকার বাসিন্দা সোহাগ আহমদ (৩৮) বলেন— ‘দুই দফায় ঘরের কিছু আসবাব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন আলমারি কিনেছি। সেটি চারটা ইটের ওপর তুলে রেখেছি। যাতে আবার বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করলেও কোনো ক্ষতি করতে না পারে।’
সিলেট জেলা প্রশাসনের গতকাল হিসাব অনুযায়ী— জেলায় ৩১৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫৭৯ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় জেলার ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। মোট ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৯১টি।




