বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের জন্য অবসর ভাতা চালুর দাবি
অতিথি সংবাদদাতা

সাদেক রিপন, কুয়েত থেকে : জীবন-জীবিকার তাগিদে ও উন্নত জীবনের আশায় পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। তার মধ্যে কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করে থাকেন।
প্রবাসে আসা বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ পরিচিত স্বজন অথবা দালালের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বা জমিজমা বিক্রি করে ভিসা কিনে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কাজ ও বেতন ঠিক থাকলে ২-৩ বছরের বেশি চলে যায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে। অর্থ উপার্জনের জন্য প্রবাশে এক বা দুই যুগ থাকতে গিয়ে টেরই পান না কখন যে মাথার সব চুল সাদা হয়ে গিয়েছে।
বৈধ পথে পাঠানো এসব বাংলাদেশি দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কর্মক্ষম হয়ে শেষ বয়সে দেশে ফিরে পরিবারের বোঝা ও অবহেলার পাত্রে হয়ে উঠেন অনেক প্রবাসী। দেশে ফিরেও কিছুই করা শক্তি ও সামথ্য থাকে না এসব রেমিটেন্স যোদ্ধার।
তাই দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে অবদান রাখা রেমিটেন্স যোদ্ধারা অবসর ভাতার দাবি করেছেন।
কুমিল্লার কুয়েত প্রবাসী এয়াকুল আলী মজুমদার জানান— তার প্রবাসের ৩৫ বছর শেষ করে ৩৬ বছরে শুরু। পাসপোর্ট অনুসারে নিজের ৬৩ বছর চলছে বলে জানান এই প্রবাসী। কুয়েতের আইন অনুযায়ী ষাটোর্ধ্ব প্রবাসীদের আকামা লাগাতে প্রায় ৮শ কুয়েতি দিনার বা প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো লাগে। এত টাকা দিয়ে আকামা লাগানো সম্ভব নয়। এই বয়সে দেশে গিয়ে পরিশ্রম করা নতুন করে কাজকর্ম শুরু করা সম্ভব না।
বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রবাসীদের পক্ষ হতে তিনি দাবি জানান— যেসব প্রবাসী দীর্ঘ প্রবাস জীবনে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তাদের জন্য প্রবাসী ভাতা প্রদানে ব্যবস্থা করা হোক।




