জনগণের ঐক্যই সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করবে: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
সময় সিলেট ডেস্ক

দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন— গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন— সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে এখন সব বিরোধী দল ও জনগণ রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জনগণের এই ঐক্যই সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করবে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দশম কংগ্রেসের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলন উদ্বোধন করেন ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী।
জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন— ‘বর্তমানে জনজীবনের সীমাহীন সংকট চলছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ অনাহারে। এই মানুষের জন্যই আজ বিপ্লব প্রয়োজন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকে এই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
সংকট উত্তরণে সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সাইফুল হক বলেন— ‘সরকার গত চার বছর ধরে জবরদস্তি করে ক্ষমতায় রয়েছে। সমগ্র দেশ ও জনগণের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভোটের অধিকারসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার এখন স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলে নতুন প্রতারণা শুরু করেছে। অধিকারবিহীন মানুষের স্মার্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে গত দেড় দশকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও বাংলাদেশকে গভীর সংকটের মুখে ফেলা হয়েছে। এই সরকারের কাছে কোনো কিছুই এখন নিরাপদ নয়।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের শহীদসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধা জানান ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (এল-এল) লিবারেশন ও নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা।
আগামীকাল সকাল ১০টায় একই স্থানে কংগ্রেসের কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হবে। পার্টির ৪২টি সাংগঠনিক জেলা থেকে ২৫৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক চার দিনব্যাপী এই কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করবেন। কংগ্রেসের সমাপ্তি অধিবেশনে পার্টির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ও নেতৃত্ব নির্বাচিত হবেন। এর আগে কংগ্রেসের কার্য অধিবেশনে পার্টির মূল রাজনৈতিক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট, পার্টির কর্মসূচি, সংকট উত্তরণের ৩১ দফা, গঠনতন্ত্র, কেন্দ্রীয় গাইডলাইন, পার্টির অর্থসংক্রান্ত প্রস্তাব, আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ অন্য দলিলপত্র নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।




