কথা রাখতে পারেননি এটিএম ফয়েজ! আকবরের আইনজীবী আলম
সংবাদ সংগ্রহ :

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যার মামলার আসামিদের পক্ষে সিলেটের কোনো আইনজীবী লড়াই করবেন না বলে জানিয়েছিলেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তার মাকেও একই আশ্বাস দিয়েছিলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজসহ একাধিক আইনজীবী। এমনকি রায়হানের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদানেরও আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা।
তবে নিজেদের দেওয়া কথা রাখতে পারেননি এটিএম ফয়েজসহ সিলেটের আইনজীবী নেতারা। সিলেট জেলা বারেরই এক আইনজীবী রায়হান হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিস্কৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে নামছেন। ইতোমধ্যে ওকালতনামায়ও স্বাক্ষর করেছেন মো. মিসবাউর রহমান আলম নামের ওই আইনজীবী।
এ প্রসঙ্গে আকবরের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সম্মত হওয়া প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মো. মিসবাউর রহমান আলম বলেন- আসামিপক্ষে আইনজীবী না থাকলে তো বিচার প্রক্রিয়াই আটকে যাবে। আকবর অভিযুক্ত হলেও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। এর আগে আইনি সহায়তা পাওয়া তার সাংবিধানিক অধিকার।
যদিও গত ১৬ অক্টোবর নগরের আখালিয়া রায়হান আহমেদের বাড়িতে গিয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এটিএম ফয়েজ বলেছিলেন- আসামি হলেও আইনি সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। তবে কিছু কিছু ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। বিবেকেরে তাড়নার কারণে ঘৃণ্য ও জঘন্যতম ঘটনার প্রতিবাদে সিলেট জেলা বার সবসময় সোচ্চার। সিলেটের সামাজিকতার সঙ্গে সিলেট জেলা বার জড়িত। এ কারণে রায়হান হত্যার প্রতিবাদস্বরূপ সিলেটের আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবেন না। এতে ন্যায় বিচারের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
রায়হানের মা সালমা বেগমকেও একই আশ্বাস দিয়েছিলেন ফয়েজ। এসময় আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ সমিতির একাধিক নেতা ও কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এটিএম ফয়েজ বলেন- রায়হান হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে সিলেটের কোনো আইনজীবী লড়াই করবেন না এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আইনজীবী সমিতি থেকে নেওয়া হয়নি। আমরা আইনগতভাবে এরকম সিদ্ধান্ত নিতেও পারি না। রায়হান হত্যার ঘটনায় সব মানুষের মতো সিলেটের আইনজীবীরাও ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ থেকেই আমি এরকমটি বলেছিলাম। একই কারণে এতদিন কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষাবলম্বন করেননি। তবে কেউ আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে চাইলে তাকে আমরা বাধা দিতে পারবো না। এটা সংবিধান ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
সিলেটের একাধিক সিনিয়র আইনজীবী বলেছেন- আইনি সেবা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। কোনো নাগরিকেরই সে অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। ফলে কোনো ঘটনা ঘটলে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াবেন না এমন ঘোষণা দেওয়াই অনুচিত।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর সকালে মারা যান নগরীর আখালিয়া বাসিন্দা রায়হান আহমদ (৩৪)। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তামান্না আক্তার।
মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এই ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান বন্দরবাজার থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আকবর হোসেন ভূঁইয়া।
গত ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে।




