ভারতে সরকারি হিসাবের চেয়ে শশ্মানে ‘কয়েক গুণ’ বেশি মৃতদেহ
আন্তর্জাতিক সময় :

সরকারির হিসাব বলছে এক। আর শশ্মানের খাতা বলছে আরেক। দিল্লিতে করোনায় মৃতদের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে— তার থেকে সাড়ে চার হাজার বেশি মানুষকে দাহ করা হয়েছে গত মাসে। বিজেপি শাসিত গুজরাটেও একই অবস্থা।
দ্য হিন্দুর হিসাব অনুযায়ী, দিল্লিতে গত ২৪ দিনে ১২ হাজার ৮৩৩ জনকে দাহ করা হয়েছে। ৫৩৪টি শশ্মানের হিসাব এটি। কিন্তু দিল্লি সরকার বলছে ৮ হাজার ৫০ জন। একই অবস্থা গুজরাটে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেসব মানুষ নতুন রোগটিতে মারা যাচ্ছেন, তারা হিসাবে আসছেন না।
প্রতিবেদনে, সুরেন্দ্র নগর নামের একটি জেলার কথা বলা হয়েছে। সেখানে গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার মানুষ মারা গেলেও নথিবদ্ধ হয়েছেন ৭৫৬ জন।
গুজরাটে সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ৭ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে আট হাজার ৯৪৪ জন। করোনাভাইরাস মহামারী মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে এমন বেশ কিছু শহর থেকে মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে এখানে।
কিন্তু গুজরাটে যে হারে মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে সেটা বিশাল এবং এজন্যে সেখানে হাইকোর্ট পর্যন্ত রাজ্য সরকারের ভর্ৎসনা করেছে। গুজরাটে এখন ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি।
গত এপ্রিলে হাইকোর্টের বিচারকরা বলেছিলেন— ‘প্রকৃত চিত্র আড়াল করে রাজ্য সরকার এ থেকে কোন ফায়দা পাবে না। বরং সঠিক তথ্য আড়াল করে বা ধামাচাপা দিলে ভয়, এবং আস্থার অভাবের আরও গুরুতর সমস্যা তৈরি হবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও আতংক ছড়িয়ে পড়বে।’
পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে সন্দেশ পত্রিকার রিপোর্টাররা সাতটি শহরে কভিডে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা গণনা করে গেছেন কঠোর অধ্যবসায়ের সঙ্গে। ২১শে এপ্রিল তাদের গণনা অনুযায়ী মারা গিয়েছিল ৭৫৩ জন। গুজরাটে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর এটি ছিল একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। এরপর ৫ মে এই পত্রিকার রিপোর্টাররা বরোদা শহরে ৮৩টি মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করেন। আর সেদিন সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩!




