ছয় ঘণ্টা পর সচিবালয় থেকে থানায় সাংবাদিক রোজিনা : নথি চুরির অভিযোগ
সময় সিলেট ডেস্ক :

সচিবালয়ে ছয় ঘণ্টা আটকে থাকার পর উদ্ধার করে প্রথম আলোর জেষ্ঠ্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সরকারি গোপন নথি চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার রাত ১০টার দিকে একজন উপ-সচিব বাদী হয়ে এই মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পিআরও মাইদুল ইসলাম প্রধান।
রোজিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে— তিনি গোপন নথির ছবি তুলেছেন এবং তা চুরি করেছেন। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম সচিবালয় থেকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়ে যায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়— দুপুরে স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার অনুপস্থিতিতে অফিস কক্ষে ঢুকেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। এ সময় তার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগ তোলেন কর্মকর্তারা। পরে তাকে আটকে রাখা হয়।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান— সচিবালয় থেকে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সচিবালয়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
এদিকে রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে রাখা হয়েছে এমন খবর বিকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সহকর্মীরা তার পক্ষ অবলম্বন করে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেন। শাহবাগ থানায় নেয়ার খবরে সেখানে ছুটে যান অনেকেই।
প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে— রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। তাকে সেখানে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
শাহবাগ থানার সামনে রোজিনা ইসলামের বোন সাবিনা পারভীন জুলি অভিযোগ করে বলেন— বিকেলে রোজিনা ইসলাম তার সোর্সের কাছে কিছু ডকুমেন্টের জন্য যান তখন তাকে বসতে বলা হয়। এরপরই তার হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে পুলিশ তার ব্যাগে কিছু কাগজপত্র জোর করে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তার সাথে উপস্থিত পুলিশ খারাপ আচরণ করতে থাকেন। তার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করেন। রোজিনা ইসলামের মোবাইলও ছিনিয়ে নেয়া হয়। রোজিনা ইসলামের কাছে বার বার স্বাস্থ্য খাতের কয়েকটি রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। প্রায় ৬ ঘন্টা রোজিনাকে স্বাস্থ্য সচিবের পিএস এর কক্ষে আটকে রাখা হয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন— রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অনন্য। আন্তর্জাতিকভাবে তার স্বীকৃতি আছে। এমন একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা অন্যায়, অনভিপ্রেত। কি কারণে এভাবে আটকে রাখা হয়েছে, অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে না নেওয়ার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। রোজিনাকে হেনস্তা করার পেছনে দায়ীদের খুঁজে বের করতে হবে।
রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা করার বিষয়ে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু সচিবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী। তিনি অবিলম্বে রোজিনা ইসলামকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।




