ঘূর্ণিঝড় ইয়াস’র আঘাত আজ দুপুরে : গতিবেগ ১৩০-১৫০ কি. মি.
সময় সিলেট ডট কম

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় আঘাত করলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব তীব্রভাবেই পড়বে। বুধবার (২৫ মে) দুপুর নাগাদ ‘ইয়াস’ উড়িষ্যা রাজ্যের উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়। আর সন্ধ্যা নাগাদ সেটি ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় দেশের ১৪টি উপকূলীয় জেলা এবং চর ও দ্বীপে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এলাকাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এ পূর্বাভাস দিয়ে দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং জয়েন টাইফুন অ্যান্ড ওয়ার্নিং সেন্টারের পূর্বাভাসে জানা যায়- ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার হতে পারে। অর্থাৎ এটি অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বাতাসের গতিবেগ ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার হতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫টায় মৌসম ভবন প্রকাশিত বুলেটিন জানাচ্ছে- গত ৬ ঘণ্টায় স্থলভাগের আরও কাছে চলে এসেছে ইয়াস। তার আগেই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় তা ‘অতি শক্তিশালী’ হওয়ার সম্ভাবনা। আর সেই অবস্থা বজায় থাকতে পারে বুধবার রাত পর্যন্ত।
বুলেটিন জানাচ্ছে- ঘূর্ণিঝড় ইয়াস উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ১৯ ডিগ্রি ১ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ডিগ্রি ১ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। এই মুহূর্তে উড়িষ্যার পারাদ্বীপ থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব, উড়িষ্যার বালেশ্বর থেকে ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব,পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব এবং সাগর দ্বীপ থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে ইয়াস। তার অভিমুখ রয়েছে উড়িষ্যার বালেশ্বরের দিকে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে- ইয়াস স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ (গাস্টিং) ১৩০ কিলোমিটার হতে পারে। বুধবার সকালে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ (গাস্টিং) ১৮০ কিলোমিটার।
এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন- ইয়াস অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতে আঘাত করতে পারে। তবে বাংলাদেশের খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার এবং ঝড়ো বাতাসের মুখে পড়বে।
এরই মধ্যে ঝড়টির প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনার নিচু এলাকা এবং চরাঞ্চলগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ টপকে ও ভেঙে ওই পানি প্রবেশ করছে। সুন্দরবনের দুবলার চরসহ জেলেপল্লিগুলোর বেশির ভাগ এলাকা এরই মধ্যে ডুবে গেছে।
দেশের উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- এরই মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রাসহ কয়েকটি উপজেলায় আগে থেকেই বেড়িবাঁধগুলো ভাঙা ছিল। সেখান দিয়ে এখন বসতি এলাকা এবং মাছের ঘেরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়ছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। এসব এলাকার অধিবাসীরা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো উপকূলবাসীকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে।




