সিলেটে হাইড্রলিক হর্ন যন্ত্রনা : একশনে পরিবেশ অধিদপ্তর
স্টাফ রিপোর্টার :

চলছেন সড়কে। হঠাৎ পেছন অথবা সামন থেকে বিকট শব্দের হর্নে আতংক! কিংবা শিশুরা ভয়ে কান্নায় মগ্ন। সামাল দেওয়া যেন কষ্টকর। কেবল শিশু নয়, বড়রাও এ যন্ত্রণা থেকে পাচ্ছেন না রেহাই। সিলেটের সর্বত্রই সড়কে চলাচলে আতংকের এক নাম হয়ে উঠেছে বিকট শব্দের হর্ন। বড় গাড়িতো আছেই, এখন বাদ যায় না মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস কিংবা লেগুনাও। প্রতিদিন অগণন গাড়িতে এসব বিকট শব্দের হর্নের কারণে মারাত্মক ভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন সিলেটের মানুষ।
এমনকি শিশুদের বধির হওয়ার শঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অবস্থায় সিলেটে হাইড্রলিক হর্ন বন্ধে বার বার বিভিন্ন মহল থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানালেও কোন সুফল মিলে। তবে এবার একশনে নেমেছে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রথম দিনের অভিযানে সিলেটের বেশ কয়েকটি গাড়ি থেকে হাইড্রলিক হর্ন অপসারণের পাশাপাশি জরিমানা আদায়ও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বেলা ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সিলেটের পাঁচমাইল বাইপাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এসময় ১১ টি গাড়ির বিরুদ্ধে জরিমানা করার পাশাপাশি ২১ টি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক থেকে হাইড্রলিক হর্ন অপসারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. এমরান হোসেন।
তিনি বলেন- এটা প্রথম দিনের অভিযান। আমরা এ অভিযান অব্যাহত রাখব। প্রথম দিন ১১ টি গাড়ির বিরুদ্ধে সাড়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর ২১টি গাড়ি থেকে বিকট শব্দের এসব হর্ন অপসারণ করা হয়েছে।
এমরান হোসেন বলেন- জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কারণ এটি মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর মাধ্যমে ব্যাপক শব্দ দূষণ হয়।
অপরদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক ডা. এন কে সিনহা শব্দ দূষণে মানুষের ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে বলেন- মানুষের জীবনে শোনার প্রয়োজন অনেক। কিন্তু শোনার পরিমাণ যদি বেশি হয় তাহলে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। শব্দের পরিমাণ যখন ডেসিবেল ৬০ হয় তখন মানুষ বিরক্ত হয়। এতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। অপরদিকে শব্দের পরিমাণ যখন ডেসিবেল ৯০ হয় তখন মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এতে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়। কানের সাথে মস্তিষ্ক সংযোগস্থলে আঘাত আসে। যার ফলে মানুষের স্মৃতি শক্তিতে সমস্যা, শারীরিক নানাবিধ সমস্যা সহ বধির হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তিনি আরও বলেন- বর্তমানে তরুণ ছেলেরা শখের বশে মোটরবাইকে যে বিকট শব্দের সাইলেন্সর ব্যবহার করে এবং পরিবহণে যে ভাবে হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহার করে তা সাধারণত ৯০ ডেসিবলের উপরে হওয়ায় এটা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই এসব বিষয়ে এখনই প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।




