মোটর সাইকেল আটকের পর ফেসবুকে লাইভ : সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা
সময় সংগ্রহ :

মোটরসাইকেল আটকের পর ফেসবুকে লাইভ করে ভাইরাল হওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
শাটডাউন চলাকালে নিজের কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল আটক করায় ক্ষুব্দ হয়ে এই ফেসবুক লাইভটি করেন ফয়সল কাদির (৪০) নামের এক ব্যক্তি। লাইভে যিনি নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন।
ফেসবুকে লাইভ করার ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ জুলাই) রাতে সিলেট নগরীর শাহপরান থানায় ফয়ছল কাদিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মো. নুরুল আফসার ভূইয়া। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফয়সাল কাদির ‘পৃথিবীর কণ্ঠ (পিকে) টিভি’ নামে ফেসবুক ভিত্তিক একটি পেজ পরিচালনা করেন। ফেসবুকে নিজেকে পিকে টিভির সম্পাদক ও মাতৃজগত নামের একটি পত্রিকা সিলেট ব্যুরো প্রধান হিসেবে দাবি করেছেন ফয়সাল।
পুলিশের সাথে আলাপকালে জানা যায়- শাটডাউন চলাকালে গত ৯ জুলাই বিকেলে সিলেট-তামাবিল সড়কের সুরমা গেট এলাকায় তিন আরোহি নিয়ে চলা একটি মোটরসাইকেল আটক করে পুলিশ। ফয়সাল কাদির এই মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তার মাথায় হেলমেট ছিলো না। আটকের পর তিনি মোটর সাইকেলের কাগজপত্র এবং নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সও দেখাতে পারেননি।
ওইদিন ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা এক পুলিশ সদস্য বলেন- মোটরসাইকেল আটকের পর ফয়সাল কাদির নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পুলিশের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মোটর সাইকেল ছাড়িয়ে নিতে চান। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি ফেসবুকে লাইভ করা শুরু করেন। তবে তার মোটাসাইকেলটি ওইদিন আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ সদস্য।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা যায়- মোটর সাইকেল আটকের ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে কথা বলছেন ফয়সাল কাদির। তার সাথে কেনো এমন আচরণ করা হলো বারবার তা দায়িত্বরত পুলিশের কাছে জানতে চান। পুলিশের উর্ধতন কর্তপক্ষ এবং সাংবাদিকদকের ফোন করে এই ঘটনা জানাচ্ছেন বলেও লাইভে বলতে শোনা যায় ফয়সালকে।
মোটর সাইকেলটি আটককালে সুরমা গেইটে চেকপোস্টের দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মো. নুরুল আফসার ভূইয়া। ফয়সাল কাদিরের লাইভ চলাকালেই সার্জেন্ট মো. নুরুল আফসারকে বলতে শোনা যায়- আপনার গাড়িতে ৩ জন তুলছেন কেনো? গাড়ির কাগজ কই? ড্রাইভিং লাইসেন্স কই?
এসব প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন- আমার গাড়ির সেল রিসিট আছে। আমি অসুস্থ। একটি জরুরী নিউজের খবর পেয়ে তাড়াহুড়ো করে বের হয়েছি। তাই এটি সাথে আনতে পারিনি। একটু সময় দিলে নিয়ে আসবো।
এসময় সার্জেন্ট নুরুল লাইভ ক্যামেরার সামনে মুখ নিয়ে একাধিকবার বলেন- সাংবাদিক বলে কি সবকিছু মাফ?
জবাবে ফয়সাল বলেন- ‘আপনার গাড়ির কাগজ কই? পুলিশেরও হেলমেট থাকে না। আমি সর্যি বলেছি। তারপরও আমার গাড়ি রেকার করছেন কেনো। সিলেটের মানুষ খুব ভালো। এই মাটি খুব ভালো। তাই সিলেটের মানুষ এতো আদর করে সোহাগ করে। আর আপনি আইনের ক্ষমতা দেখাচ্ছেন। গাড়ি চলতেছে। গাড়ি চলার সুবিধা দিয়ে সাধারণ সংবাদকর্মীর সাথে এমন আচরণ করছেন।…’
এই বাদানুবাদের লাইভ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুক লাইভেই অনেকে ফয়সাল কাদিরের আচরণের নিন্দা করে মন্তব্য করেন। সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, ক্ষমতা প্রদর্শনের নিন্দা করেন মন্তব্যকারীরা। একইসাথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের আচরণের প্রশংসা করেন তারা।
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে রোববার রাতে ফয়ছল কাদিরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সেদিন মোটরসাইকেল আটককারী সার্জেন্ট মো. নুরুল আফসার ভূইয়া।
মামলার এজাহারে ফয়ছল কাদিরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য সরাসরি প্রচার করে অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের সোমবার সকালে বলেন- আইন অমান্য করায় গত শুক্রবার ফয়সাল কাদিরের মোটরসাইকেলটি রেকার স্লিপের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছিলো। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রীবহন, হেলমেটবিহীন আরোহন, রেজিষ্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালনার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ফয়ছল কাদির ওই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রায় ১৫ মিনিট লাইভ করে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে অস্থির ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করেন এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উপক্রম করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে সোমবার দুপুরে ফয়সাল কাদিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
মোটর সাইকেল আটকানোর পর ফেসবুকের ওই লাইভে ফয়সাল কাদিরকে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদের প্রসঙ্গ একাধিকবার বলতে শোনা যায়। লাইভে ফয়সাল কাদির দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন- ‘আপনারা আমার মোটর সাইকেলে হাত দেবেন না। আমি ডিসি সাহেবকে ফোন দিচ্ছি। তিনি এখানে আসবেন। তারপর দেখবো।’
এ প্রসঙ্গে সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন- এই লোককে (ফয়সাল কাদির) আমি চিনি না। অনেকেই তো আমাকে কল দেয়। সব কল রিসিভ করাও হয় না। ওইদিন তার সাথে আমার কোনো আলাপ হয়নি। এর আগে কোনোদিন হয়েছে বলেও মনে করতে পারছি না।




