‘ফয়ছল কাদির সাংবাদিক পরিচয়ে স্টিকার ও টুকেন বাণিজ্য করতো’
সময় সিলেট ডেস্ক :

ফয়ছল কাদির (৪০)। বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজারের আব্দুল হান্নানের ছেলে। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গাড়িতে ভুঁইফোড় সংবাদ মাধ্যমের স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি। কখনো ভুয়া টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে মানুষের সাথে প্রতারণা, ব্যবসায়ী’সহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে হুমকি দিয়ে অর্থ উপার্জন করে। তবে তার মূল পেশা হচ্ছে, ভুঁইফোড় পত্রিকার স্টিকার-কার্ড ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার টুকেন বাণিজ্য।
বুধবার (১৪ জুলাই) বেলা ২টার দিকে র্যাব-৯ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভুয়া সাংবাদিক ফয়ছল কাদিরের নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়।
প্রেস ব্রিফিংকালে র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামিউল আলম বলেন- গত ৯ জুলাই লকডাউন বাস্তবায়নে সিলেট সদর উপজেলার সুরমা গেটে চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন একদল ট্রাফিক পুলিশ। ওইদিন বিকেলে হেলমেটবিহীন তিন আরোহী নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে সুরমা গেট দিয়ে যাচ্ছিলেন ভুয়া সাংবাদিক ফয়ছল কাদির। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট তাকে আটক করে গাড়ীর কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে বলেন। তিনি পারেন নি। উপরন্তু উত্তেজিত হয়ে তার একটি ফেসবুক পেজ থেকে লাইভের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা তথ্য প্রচার শুরু করেন।
এ ঘটনার পর ফয়ছলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এর পর থেকে তার উপর আমরা নজর রাখছিলাম। অবশেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার পীরেরবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সামিউল আলম আরও বলেন- গ্রেফতারের পর ফয়ছল কাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের বাইরেও আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- তার মূল পেশা হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশার টুকেন বাণিজ্য ও নানা ভুঁইফোড় পত্রিকার স্টিকার বাণিজ্য। এর মাধ্যমেই সে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে।
এ ব্যাপারে শাহপরাণ থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন- বিকেল ৩টার দিকে র্যাব ফয়ছল কাদিরকে থানায় হস্তান্তর করে। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।




