আব্বার মতো আমরাও ত্যাগ স্বীকার করেছি: প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার

ছোট ভাই শেখ কামালের জন্মদিনে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ‘আমার আব্বা যেমন সারা জীবন এই দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সন্তান হিসেবে আমরাও। একদিকে যেমন পিতৃস্নেহবঞ্চিত হয়েছি, কিন্তু আমরা কখনো সেটাকে কষ্ট মনে করিনি। আমার মা সেটা করতে দেননি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন’ এবং ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন সরকারপ্রধান।
কামালের প্রসঙ্গ টেনে পরিবারের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন- ‘কোনো হা-হুতাশ বা অতিরিক্ত চাওয়া, সেগুলো আমাদের ছিল না। খুব সাধারণভাবে জীবনযাপন করা, একটা আদর্শ নিয়ে চলা, দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা এটাই আমাদের শিক্ষা। সেই শিক্ষাই কামাল সব সময় অনুসরণ করেছে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার তিন বছর পার না হতেই জাতির পিতার বড় ছেলে ক্যাপ্টেন শেখ কামালকে যে ‘হত্যার চেষ্টা’ করা হয়েছিল, তাতে সফল না হয়ে যেভাবে ‘অপপ্রচার’ চালানো হয়েছিল, সেসব কথা তার জন্মদিনে স্মরণ করলেন তার বোন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন- ‘১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটা চক্রান্ত করে কামালকে গুলি করা হয়। তাকে হত্যারও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সে যখন বেঁচে যায়, তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। অথচ রাষ্ট্রপতির ছেলে বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, জাতির পিতার ছেলে অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করত। কখনো বাবা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি, সেজন্য অর্থ সম্পদের দিকে তার কোনো দৃষ্টি ছিল না। ব্যবসাবাণিজ্যের দিকে তার কোনো দৃষ্টি ছিল না। দেশকে গড়ে তোলা, দেশের মানুষের পাশে থাকা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অঙ্গন বা ক্রীড়া অঙ্গন এসব কিছুর উন্নতি করা, এটাই ছিল তার সব থেকে বড় কথা।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ‘স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনও তিনি গড়ে তুলেছিলেন। ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন শেখ কামাল। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যও ছিলেন তিনি।
কামাল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন শেখ কামাল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করা হয়। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ঝরে যায় শেখ কামালের জীবন। তার স্ত্রী অ্যাথলেট সুলতানা খুকুকেও সেদিন রেহাই দেয়নি ঘাতকের বুলেট। স্বাধীনতার পর দেশের ক্রীড়া অঙ্গনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে শেখ কামালের ভূমিকার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন- ‘আমাদের দেশে যে আধুনিক ফুটবল খেলা বা ক্রিকেট খেলা বা এই যে খেলাধুলা, সেটাকে একটা আধুনিকতার ছোঁয়া এবং সংগীত জগতে বা সাংস্কৃতিক জগতে, সেখানেও তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে সে অনেক অবদান রেখে গেছে আমাদের সমাজের জন্য।’
শেখ হাসিনা দুঃখ করে বলেন- ‘জাতির পিতা আজীবন শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন, অথচ এদেশেরই কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন- ‘এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা এই বাংলাদেশে ঘটে গেছে। ১৫ আগস্ট যদি আজকে বাঙালির জীবনে না ঘটত, তবে এই বাঙালি অনেক আগেই বিশ্বে একটা মর্যাদা নিয়ে চলত। এবং এই হত্যার পর বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশে ঘোষণা দিয়েছিল, যদিও সেটা টেকেনি। কাজেই চক্রান্তটা কোথায়, কীভাবে ছিল সেটা নিশ্চয় দেশের মানুষ এখন এতদিনে উপলব্ধি করতে পারে। আর কত বড় বিশ্বাসঘাতকতা, সেটাও নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারেন।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার, ২০২১’ বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আখতার হোসেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদও উপস্থিত ছিলেন।




