করোনা রোগীদের সহায়তায় বিএনপির উদ্যোগে পাশে নেই মেয়র আরিফ!
সময় সংগ্রহ

করোনা মহামারীতে জনগণের পাশে দাঁড়াতে সিলেট মহানগর ও জেলা বিএনপি পাশে পায়নি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। এমন অভিযোগ করেছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী।
রোববার (৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন- মেয়র আরিফ জনপ্রতিনিধি, নগরীর অভিভাবক। এতদসত্ত্বেও তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং বিএনপি নেতাকর্মীর প্রত্যক্ষ ভোটে ও সহযোগিতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার স্বভাব সুলভ স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃণমূল নেতাকর্মী, যাদের ত্যাগে-শ্রমে আজ তিনি নগরীর অভিভাবক, তাদের সাথে অদৃশ্য দেয়াল গড়ে তুলেন।
আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী আরও বলেন- উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় রেখে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু দলের স্বার্থে যেকোনো উদ্যোগ ও সমন্বয়ে তার বিপরীত ভূমিকা দেখা যায়। করোনা মহামারিতে সিলেটে অক্সিজেন সংকট ও মৃত্যু তীব্র আকার ধারণ করায় বিএনপি রোগীদের সেবায় নগরীর ভাতালিয়াস্থ বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে “করোনা সহায়তা কেন্দ্র” চালু করেছে। যেখানে টেলিমেডিসিন সেবা, অক্সিজেন সেবা, এ্যাম্বুলেন্স সেবা, করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশন সেবা, দাফন-কাফন ও সৎকার সেবা, সেচ্ছাসেবী সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও এম.এ.হক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের সহযোগিতায় সেচ্ছাসেবীরা মানুষের দোরগোড়ায় যথাসম্ভব সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। সাধ্যের মধ্যে খাদ্য সহযোগিতাও করে যাচ্ছে। উদ্যোগকে সফল ও সার্থক করতে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সর্বাত্মক সহযোগিতা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের অন্যতম উপদেষ্টা, জনমানুষের নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও দিকনির্দেশনায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
কিন্তু এমন মহতী উদ্যোগে মেয়র আমাদের পাশে নেই। তদুপরি দলীয় নেতাকর্মীরাও চরম দুঃসময় পার করছে। নগরীর অভিভাবক ও বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে মেয়রের যথেষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু তিনি নির্বিকার। নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত তিনি। নিজের চেয়ারকে পাকাপোক্ত করতে দৃষ্টি শুধু নিজের দিকে।
তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন- দলের দুঃসময়ে ও যেকোনো উদ্যোগে যখন তাকে পাওয়া যায় না, আমরাও অনেক সময় শপথ করে বলি, নির্বাচনের সময় আমরা তার পাশে দাঁড়াবো না। তদুপরি দল ও জনগণের স্বার্থে আমরা নির্বাচনে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর পাশে দাঁড়াই। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ভিন্ন আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখতে পায়। যেখানে দলীয় স্বার্থ গৌণ।
এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।




