মেসি এখন পিএসজি’র : শুরু হলো নতুন অধ্যায়
স্পোর্টস রিপোর্টার

বার্সেলোনাকে পেছনে ফেলে পিএসজিতে এলেন একেবারে নতুন হয়ে লিওনেল মেসি। প্যারিসের বুর্জে এয়ারপোর্টে বিমান থেকে নেমে এলেন যখন, তখন তাঁর গায়ে সাদা টি-শার্ট, মাঝখানে কালো রঙের বড় অক্ষরে লেখা ‘প্যারিস’। বিমানবন্দরে, পিএসজির স্টেডিয়াম পার্ক দ্য প্রিন্সেসে ছয়বারের ব্যালন ডির জয়ীর জন্য যে দীর্ঘ অপেক্ষা ছিল সমর্থকদের, তাদের এর চেয়ে ভালোভাবে আর কী করে দেখা দিতে পারতেন তিনি! তাঁর হৃদয়ে বার্সেলোনা, কিন্তু নতুন ক্লাবে এলেন তাদেরও আপন করে নেওয়ার মানসিকতায়।
সেই ব্যুরোফ্যাক্স কাণ্ড থেকে শুরু করে মেসির বার্সায় থাকা না-থাকা নিয়ে তো নাটক কম হয়নি। এবার যেমন নতুন চুক্তি সই করার ঠিক আগমুহূর্তে ১৮০ ডিগ্রি কোণ ঘুরে গেল সব কিছু। প্যারিসে আর্জেন্টাইন তারকাকে বরণ করতে উৎসবের প্রস্তুতির পরও তাই জল্পনা থামছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো চমক নয়। কাল বিকেলেই ফ্রান্সের রাজধানী শহরে পা রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
বার্সেলোনায় মেসিহীন নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে এর মধ্যে। তাঁকে ছাড়া প্রথম ম্যাচও খেলে ফেলেছেন জেরার্দ পিকে, সের্হিয়ো বুশকেত্জরা। স্টেডিয়ামের দেয়াল থেকে মেসিসহ গ্রুপ ছবিগুলো নামিয়ে ফেলা হচ্ছে। ওদিকে পিএসজিতে তর্ক সাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে বরণ। পার্ক দ্য প্রিন্সেসে ছিল সমর্থকদের দীর্ঘ অপেক্ষা। প্যারিসের বিমানবন্দরেও তাই। কালই দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তির সব বিষয়ে একমত হওয়ার পর পরিবারসহ বার্সেলোনার এল প্রাত বিমানবন্দর থেকে প্যারিসের বিমানে চড়েন মেসি। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে মেসির বাবা হোর্হে মেসি প্রথম নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলের পিএসজিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি। বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে, ‘মেসি পিএসজিতেই যাচ্ছেন কি না?’—এমন প্রশ্নে ছোট করে শুধু ‘হ্যাঁ’ বলেই তিনি ভেতরে ঢুকে যান। বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষের মনোভাব যেমনই হোক, কাতালানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে মেসি-বিয়োগে। কেন এমনটা হলো—এই প্রশ্নের মনমতো উত্তর যেন এখনই পাননি তাঁরা। তাই বার্সেলোনা ছাড়ার মুহূর্তেও হোর্হে মেসির কাছে দ্বিতীয় প্রশ্নটিই ছুটে যায়, কেন এমন হলো? মেসির বাবার জবাবেও ছিল অভিমান, অনুযোগ, ‘ক্লাবকেই জিজ্ঞেস করুন।’
আজ থেকে মেসির সেই ক্লাবের নামটাই বদলে যাচ্ছে। বার্সেলোনা এখন অতীত। মেসি এখন পিএসজির। আগামী দুই বছরের জন্য চুক্তি করতে যাচ্ছেন তিনি প্যারিসের ক্লাবটির সঙ্গে, বাড়াতে পারবেন আরো এক বছর। বছরে ৩৫ মিলিয়ন ইউরো পাবেন। কাল সন্ধ্যায়ই পিএসজিতে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার কথা। আজ আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই এবং পিএসজির খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। ছয়বারের বিশ্বসেরাকে সতীর্থ হিসেবে পেতে পিএসজির অন্য ফুটবলারদেরও যেন তর সইছে না। কাল তাদের নতুন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা যেমন বলছিলেন, ‘মেসি বিশ্বসেরা, ওর সঙ্গে একই ক্লাবে খেলব ভাবতেই রোমাঞ্চ হচ্ছে। আমি দারুণ খুশি।’ এক কূল ভাসিয়ে আরেক কূল গড়ছেন যেন মেসি। তাঁর ভেতরে কী চলেছে, চলছে। তার একটা ছবি দেখা গেছে বার্সেলোনায় বিদায়ি সংবাদ সম্মেলনে। পিএসজির জার্সিতে এখন নতুন এক মেসিকেই দেখার অপেক্ষা। ইউরোপিয়ান আসরে দুই দল মুখোমুখি হয়ে গেলে মেসির বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ হয়ে খেলাটাও হবে অন্য রকম, যেমনটা ভাবা যায়নি কখনো। মার্কা, এএফপি




