সেই ১৭০৩ জন ‘ম্যারাডোনা’কে খুঁজছে অ্যাডিডাস
সময় সিলেট ডট কম
অবাক লাগতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের আগে ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনায় আলোচিত ছিলেন বটে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি নাম নিবন্ধিত হওয়ার কথা তো তাঁর বিশ্বকাপ জয়ের পর! আপাতদৃষ্টে সাধারণ ধারণা এমন হলেও ফুটবলের প্রতি আর্জেন্টাইনদের ভালোবাসাটা আরও গভীর, ক্লাব ফুটবল যার ভিত্তি—বোকা জুনিয়র্স-রিভার প্লেট!
প্রথম মেয়াদে ম্যারাডোনা বোকা জুনিয়র্স মাতান শুধু ১৯৮১ মৌসুম। সে বছর বোকা জিতল আর্জেন্টাইন লিগ, হইচই ফেলে দিলেন ২১ বছর বয়সী ম্যারাডোনা। হইচই পড়ল নতুন মা–বাবার মধ্যেও। ১ হাজার ৭০৩ জন নতুন শিশুর নাম রাখা হলো ম্যারাডোনার নামে ডিয়েগো আরমান্দো।
জার্মানির ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস সেই ১ হাজার ৭০৩ জন ম্যারাডোনাকে খুঁজছে। কাল থেকে শুরু হয়েছে এ কার্যক্রম। তাঁদের হাতে বোকা জুনিয়র্সের রেপ্লিকা জার্সি তুলে দেবে অ্যাডিডাস। গত বছরের শুরুতে নাইকিকে সরিয়ে বোকার জার্সি বানানোর দায়িত্ব পায় অ্যাডিডাস।
এবার নতুন মৌসুমের জার্সি উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা গত সপ্তাহেই সেরেছে তারা। এই জার্সির মূল ধারণা নেওয়া হয়েছে আশির দশক এবং ১৯৮১ সালে বোকার ‘ক্ল্যাসিক’ জার্সি থেকে। জার্সির কাঁধে হলুদ রঙের তিনটি দাগ ও বুকের ওপর চার তারকা—এমন জার্সি পরে ১৯৮১ মৌসুম মাতান ম্যারাডোনা।
বোকায় দ্বিতীয় মেয়াদে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ টানেন ম্যারাডোনা। গত বছর না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো কিংবদন্তির প্রাণের ক্লাব ছিল বোকা। ঘরের মাঠ বোমবোনেরা স্টেডিয়ামে ব্যক্তিগত একটি বক্সও ছিল তাঁর।
প্রথম মেয়াদে বোকা ছেড়ে ১৯৮২ সালে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান, এর দুই বছর পর যোগ দেন ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিতে। সেখানে প্রায় একক নৈপুণ্যে লিগ জিতিয়েছেন নেপলসের ক্লাবটিকে। ১৯৯৭ সালে ক্যারিয়ার শেষ করেন ম্যারাডোনা।
চার বছর পর বোকার ঘরের মাঠে ফিরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ফুটবল ছাড়ার। অনিয়ন্ত্রিত জীবন ও মাদকাসক্তির কারণে বিতর্কিত ম্যারাডোনা তখন ভক্তদের প্রতি বলেছিলেন- ‘আমি নিজের ভুলের মাশুল দিয়েছি কিন্তু ফুটবলে কখনো দাগ লাগতে দিইনি।’
গত বছর ২৫ নভেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা।





