তালেবানের বিজয়কে বড় আঘাত হিসেবে দেখছে জাপান
সময় সংগ্রহ
২০০১ সালের পর থেকে জাপান সরকার আফগানিস্তানের পুনর্নির্মাণে বিশাল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছে। ২০০২ সালে জাপান আফগানিস্তানের পুনর্গঠন সহায়তার ওপর প্রথম একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সৌদি আরবের যোগ দেওয়া সেই সম্মেলনে জাপান বৈদেশিক উন্নয়ন সাহায্যের অংশ হিসেবে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার আফগানিস্তানকে প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর থেকে প্রতিবছর জাপান আফগানিস্তানের সহায়তায় সরাসরি সাহায্যই কেবল দেয়নি, একই সঙ্গে মার্কিন ও ন্যাটোর সেনা উপস্থিতি অব্যাহত রাখতেও নানাভাবে সাহায্য করে গেছে। ২০০১ থেকে ২০০৯ সালের শেষ দিক পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদেশের যুদ্ধজাহাজের জন্য বিনা মূল্যে জ্বালানি তেল জাপান সরবরাহ করে গেছে। এই সব যুদ্ধজাহাজ আল–কায়েদা ও তালেবান বাহিনীকে মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ভারত মহাসাগরে মোতায়েন রাখা হয়েছিল।
২০১২ সালে আফগান সরকারের সঙ্গে মিলে আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন জাপান করেছিল। কয়েকটি দাতাদেশ সেখানে সম্মিলিতভাবে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। জাপানের সংবাদমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে আফগানিস্তানকে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেওয়া জাপানের সাহায্যের মোট পরিমাণ হবে ৭০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। জাপানি সহায়তায় অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াও শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান। তবে তালেবান বাহিনী এখন দ্রুতগতিতে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলায় সেই সব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জাপান চিন্তিত। তালেবান শাসনে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়া ছাড়াও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি উল্টো পথে চালিত হওয়ার আশঙ্কাও জাপানে অনেকে করছেন।
তবে একই সঙ্গে হামিদ কারজাই এবং আশরাফ গনির প্রশাসনে আফগানিস্তানকে সার্বিকভাবে গ্রাস করে ফেলা দুর্নীতি নিয়ে জাপান সরকারের চুপ করে থাকা নিয়ে নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠেছে। বিশাল অঙ্কের অর্থ নিয়ে আশরাফ গনির দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বিষয়টিকে সামনে এনে ঢালাও সাহায্য আসলেই কার্যকর কি না, সেই প্রশ্ন অনেকেই এখন করছেন।
এদিকে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি আফগান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মিসরীয় প্রতিপক্ষ সামেহ শুকরির সঙ্গে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া বন্ধ করতে সহায়তার বিষয়ে একমত হন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাবুলে জাপানি দূতাবাসে কর্মরত ১২ জন কর্মী মিত্রদেশের একটি উড়োজাহাজে চেপে কাবুল ছেড়েছেন। বর্তমানে তাঁরা দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে ১৫ আগস্ট দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাঁরা কাবুলে থেকে গিয়েছিলেন।





