নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭২তম জন্মদিন আজ
সময় সিলেট ডেস্ক

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭২তম জয়ন্তীতে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার সিলেট বিভাগের আয়োজনে ও এম এ জি ওসমানী অঞ্চলের সহযোগিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে আজ বুধবার।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরের ক্বীনব্রীজ সংলগ্ন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের মহড়া কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রয়েছে: শ্রদ্ধাঞ্জলি, জীবনী পাঠ, নৃত্য,কবিতা,গান ও নাটক থেকে পাঠ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল সংস্কৃতি প্রেমীদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন- বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার সিলেট বিভাগের সমন্বয়কারী রজত কান্তি গুপ্ত ও এম এ জি ওসমানী অঞ্চলের সমন্বয়ক সৈয়দ সাইমূম আনজুম ইভান।
উল্লেখ্য, রবীন্দ্রোত্তর বাংলা নাট্যভুবনে সবচেয়ে দীপ্র নাম সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮)।
আচার্য সেলিম আল দীন একটি নাম। একটি অধ্যায়। বাংলা নাটকের প্রবাদ পুরুষ। আগামীকাল ১৮ আগস্ট আচার্যের ৭২তম জন্মবার্ষিকী।
মৃত্যু যে বিভাজন এঁকে দেয় জীবনের সঙ্গে, কেউ কেউ এই বিভাজন ভেঙে বেরিয়ে এসে চির বহমান, চির অমলিন, চিরসাথী, চিরজীব হয়ে থাকেন।
আচার্য সেলিম আল দীন সে রকম চিরঞ্জীব হয়ে আছেন আমাদের মাঝে।
তিনি রবীন্দ্রোত্তর বাংলা নাটকের প্রাণপুরুষ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা নাটককে যে স্তরে পৌঁছে দিয়ে গেছেন, সেলিম আল দীন হেঁটেছেন তারই পথে এক আকাশস্পর্শী ভিন্নতায়। আর হয়ে উঠেছেন অনন্য।
বাংলা নাটক হাজার বছরের ধারাবাহিকতায় যেভাবে এগিয়েছে তার রূপ, রস, গন্ধ নিয়ে; সেলিম আল দীন সেই পথেই হাঁটলেন। নির্মাণ করলেন বাংলা নাটকের একটি নিজস্ব আঙ্গিক। বাংলা নাটকে শ্রুতিময়তার যে শক্তি, তাকেই কাজে লাগিয়ে লিখেছেন একের পর এক নাটক। বাংলা নাটককে পাঠ্যসূচির বাইরে এনে সঙ্গীত-নৃত্য-বাদ্যসহযোগে অভিনয় করলেন। আবিষ্কার করলেন মধ্যযুগের নাট্য আঙ্গিকের সঙ্গে বর্তমানের সমন্বয়।
কখনও বর্ণনাত্মক অভিনয়রীতি, কখনও কথানাট্য, কখনওবা দ্বৈতদ্বৈতাবাদী শিল্পতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে লিখে যান একের পর এক নাটক- ‘ফেস্টুনে লেখা স্মৃতি’, ‘চাকা’, ‘মুনতাসীর’, ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘কীর্তনখোলা’, ‘হাত হদাই’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘হরগজ’, ‘প্রাচ্য’, ‘বনপাংশুল’, ‘ধাবমান’ ও ‘কেরামত মঙ্গল’। তাছাড়া আছে ‘পুত্র’ এবং ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস’সহ অসংখ্য রচনা।




