আজ তাহলে কী ঘটতে চলেছে সিলেট বিএনপিতে?
সময় সিলেট ডেস্ক

সিলেট বিএনপিতে যেন দুঃসংবাদের শেষ নেই। এখানকার বিএনপি পরিবারের পদত্যাগী নেতাদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে ক্রমশ। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় শনিবারও পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি ছাড়াও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রবীণ-নবীন নেতাদের সম্মিলিত তৎপরতা রাজনীতিক মহলে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে। আজ সোমবার সম্মিলিত ঘোষণা আসতে পারে। এদিন সিলেট বিএনপিতে কী ঘটতে যাচ্ছে? তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
কয়েকদিন আগে শত শত অনুসারী নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা ও মহানগরীর ওয়ার্ড কমিটিগুলোর শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করেছেন। তাঁতী দলের শীর্ষ তিন নেতাও পদত্যাগ করে এখন বিদ্রোহীদের সঙ্গে। সিলেটে পদত্যাগের সূচনা করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। শুধু পদ নয়, বিএনপিও ত্যাগ করেছেন তিনি। প্রেস ব্রিফিং করে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছেন।
এরপর থেকে সিলেট বিএনপিতে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে। বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের না জানিয়ে আকস্মিক সমন্বয় সভা করার পর দলের ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গুটিকয় নেতার তৎপরতা থেকে অনেকটা অন্ধকারে থাকা দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বুঝে উঠতে পারছেন না- এমন পরিস্থিতিতে তারা কী করবেন?
সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন- দলত্যাগী নেতা অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। সেখানে জেলার নেতার করণীয় তেমন কিছু নেই। এরপরও উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রকে আমরা দফায় দফায় অবহিত করছি।
তিনি আরও বলেন- বড় দলে সবার মন জুগিয়ে কখনোই কমিটি দেওয়া যায় না। পদত্যাগ ও দলত্যাগের ঘটনার চেয়ে রটনা বেশি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন- কেন্দ্রের এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় আছি। তাই এখন কথা বলতে পারছি না।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি বলেন- কেন্দ্র কমিটি দিয়েছে। কেন্দ্রই বিষয়টি দেখবে। আমরা মাঠের নেতারা বিভিন্ন মামলায় আদালতে হাজিরা দিতেই হয়রান হয়ে যাচ্ছি। এছাড়া চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার পরিবেশ নেই বলেও তিনি জানান।
প্রবীণ রাজনীতিক ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মখন মিয়া বলেন- চোখ বন্ধ রাখলে প্রলয় থামে না। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি বিদ্রোহের আগুন ছড়াচ্ছে। জাগদল থেকে শুরু করে আমি বিএনপিতে আছি। এতদিনে আর কিছু না বুঝলেও আমি রাজনীতির পালস বুঝি।
তিনি আরও বলেন- সিলেটে এখন যা হচ্ছে তা ভয়ংকর। ক্ষোভ, বিক্ষোভ, দলত্যাগ কেন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ করা জরুরি। যাতে দলের ঐক্য নষ্ট না হয়। সোমবারের সম্মিলিত ঘোষণায় কি থাকছে- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মখন বলেন- সোমবারের ঘোষণা সোমবারেই জানবেন। এর আগে বলা ঠিক নয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব দেওয়ান জাকির হোসেন বলেন- কেন্দ্র সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে ঘন ঘন খোঁজখবর নিচ্ছে। বিএনপি নেতারাও বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস। সমস্যা সমাধানে খুব শিগগিরই কেন্দ্র উদ্যোগ নেবে বলে তিনি জানান।
শত শত অনুসারী নিয়ে সিলেট বিএনপির নেতাদের একের পর এক পদত্যাগের ঘটনায় বিব্রত কেন্দ্রের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা। পদত্যাগী নেতাদের তারা ঘন ঘন ফোন করছেন, যোগাযোগ রাখছেন। আবার অনেকে সহমত পোষণ করছেন। অনেকে পদত্যাগী নেতাদের নিশ্চিত করেছেন- কেন্দ্র থেকেও শিগগিরই কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করবেন। দু-এক দিনের মধ্যেই তাদেরও ঘোষণা দেওয়ার কথা।
এদিকে, শনিবারও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন আহ্বায়ক কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সৈয়দ লোকমানুজ্জামান নামের যুগ্ম-আহ্বায়ক পদত্যাগের বিষয়টি ফেসবুকে তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে একটি পোস্ট তিনি আবার ট্যাগ করেছেন দলত্যাগী কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামানের ফেসবুক আইডির সঙ্গে।
১৭ আগস্ট দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দু’টি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ দুটি কমিটি ঘোষণার পর দল থেকে পদত্যাগ ও বিএনপির রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান।
এরপর জামানের পথ ধরে বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও মহানগরীর ওয়ার্ড কমিটির নেতা শত শত নেতাকর্মী ও অনুসারী নিয়ে পদত্যাগ করেন।




