‘রাজাকারদের ফেলা অস্ত্র কুড়িয়ে আ.লীগ নেতারা মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন’
সময় সংগ্রহ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন- পাকিস্তানি রাজাকারদের ফেলে দেয়া অস্ত্র আওয়ামী লীগ নেতারা কুড়িয়ে নিয়ে ছবি তুলে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন, তাদের রণাঙ্গণে দেখা যায়নি। তিনি বলেন- তাদের শীর্ষ নেতা ছিলেন পাকিস্তানের হেফাজতে, অন্যান্য বড় নেতারা ভারতের শ্রীনিকেতন হোটেলে পিকনিক করে সময় কাটিয়েছেন। আর জিয়ার স্বাধীনতার ডাক শুনে এদেশের কোটি জনতা সেদিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছিল।
আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) এর উদ্যোগে স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’সহ বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা অপবাদ ও মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্যর প্রতিবাদে মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল আওয়ামী লীগ সেই ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন- জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচিত হয় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে গেলে জিয়াউর রহমানের নাম প্রথমেই আসবে।
আবফুস সালাম বলেন- জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিল কিনা, তিনি যুদ্ধ করেছেন কিনা, তার কবর চন্দ্রিমা উদ্যানে আছে কিনা আওয়ামী লীগ এসব অবান্তর কথা বলে ইতিহাস বিকৃতি করছে। তারা সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করতে চায়। তাদের কথা শুনে এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে যে আসলে তারা কি চায়? তারা কি মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করতে চায়? নাকি দেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেই ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায়?
তিনি বলেন- ভারতের অনেকে বলে ১৯৭১ সালে পাক ভারত যুদ্ধ ছিল- মুক্তিযুদ্ধ ছিল না। তাহলে কি আওয়ামী লীগ সেটাই চায়? ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ এর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছে। এখনো কি তারা এটাই চায়? তাদের মাথায় কি এখনো সেই ভূত চেপে আছে?
তিনি আরও বলেন- জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচিত হয় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে গেলে জিয়াউর রহমানের নাম আসবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- বেশি ঘাটাঘাটি না করা আপনাদের জন্য ভালো। আপনারা কোথায় যুদ্ধ করেছেন? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। আপনারা তো পাকিস্তান থেকে মাসোহারা নিতেন আর এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলেন। আপনার স্বামী দৈনিক বাংলায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন- জিয়ার কন্ঠে আপনি ও ড. ওয়াজেদ স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছেন। অস্বীকার করেন কিভাবে? দেশের প্রধান নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেন আগে থেকে বাক্স-পেটি গুছিয়ে ধরা দিলেন, পালিয়ে গিয়ে কেন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে দিলেন না এসব প্রশ্ন সামনে চলে আসবে। কাজেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কম কথা বলা আওয়ামী লীগের জন্য মঙ্গল।
জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) কেন্দ্রীয় সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনজুর রহমান ভূঁইয়ার পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি,লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার হোসেন, জিসপ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. আলী মন্ডল, (জিসপ) কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক, কাজী ফখরুল ইসলাম, জিসপ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান হীরা, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদুল হাসান, জামিল আহমেদ ভোলা, মামুনুর রহমান শুক্কুর’সহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ




