আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠন আবার স্থগিত
আন্তর্জাতিক সময়

আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠন স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন- তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। শনিবার সরকার গঠনের কথা ছিল। এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সরকার গঠনের কথা থাকলেও তা হয়নি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে- একদিন পেছানোর পর শনিবার নতুন সরকার গঠনের কথা থাকলেও তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন- ‘নতুন আফগান সরকার ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে আগামী সপ্তাহে।’
সরকার গঠনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য তালেবান কর্তৃক গঠিত কমিটির সদস্য খলিল হাক্কানি বলেছেন- ‘কাবুলে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের জন্য তালেবানের প্রস্তাবই প্রকৃতপক্ষে এই বিলম্বের কারণ।’
তিনি বলেছেন- ‘তালেবান একাই সরকার গঠন করতে পারে কিন্তু আমরা এমন একটি সরকার গঠন করতে চাচ্ছি যেখানে সমাজের সব জাতি, গোষ্ঠী ও অংশের সঠিক প্রতিনিধিত্ব থাকে। শুধু তালেবানের সরকার বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’
খলিল হাক্কানি বলেছেন- আফগানিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জমিয়তে-ই-ইসলামীর প্রধান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার এবং সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির ভাইও সরকারে থাকবেন। উল্লিখিত দুজনই তালেবানকে সমর্থন দিয়েছেন।
তালেবান আফগানিস্তানে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার ২২ দিন পার হয়ে গেলেও দেশটিতে সর্বদলীয় একটি নতুন সরকার গঠনের জন্য আলোচনা চললেও তা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা- সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে।
শুক্রবার জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন- নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে শনিবার। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে- তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বারাদার সম্ভবত নতুন আফগান সরকারের প্রধান হবেন।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা তালেবান মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর হাতে ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত অনির্বাচিত পরিষদের মাধ্যমে কঠোর শরিয়া আইনে আফগানিস্তান শাসন করলেও এবার নমনীয় হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’সহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো তালেবানের এমন আশ্বাসে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে- নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও যে কোনো অর্থনৈতিক সহায়তা নির্ভর করবে ক্ষমতায় আসার পর তালেবান কি করে তা দেখার ওপর।




