লাফার্জ হোলসিমের ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলা পিবিআইর হাতে
সময় সংগ্রহ

সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানার ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোম্পানির সিইও মিঃ ইয়াংরেকিম’সহ প্লান্ট ম্যানেজার হারপাল সিং, এইচ আর এন্ড লিগ্যাল ডাইরেক্টার মিজানুর রহমান, প্লান্ট এডমিন ম্যানেজার এনামুল হক, প্লান্ট এডমিন এসিস্টেন ম্যানেজার ইয়াকুব আলী, সিবিএ সভাপতি আনোয়ার হোসেন’সহ ৬ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করা হয়।
গত ৩১ আগস্ট সিলেট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২৩ পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন হেলাল আহমদ। তিনি সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র ও লাফার্জ হোলসিমের পরিবহন শ্রমিক নেতা। এ মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত কর্তৃক পিবিআইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়- ছাতকস্থ লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কোম্পানী লিমিটেডের কর্মরত ২৩ পরিবহণ শ্রমিক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর চট্রগ্রাম ২য় শ্রম আদালতে ২৩টি শ্রম আইনে (আইআর) মামলা (নং-৩০-৫২/১৩) দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে চট্রগ্রামের ২য় শ্রম আদালতের বিচারক এক আদেশে দেন। এতে বলা হয়- পরিবহন শ্রমিকদের চাকুরিতে যোগদানের সুযোগ প্রদান’সহ চাকুরী সংক্রান্ত সকল সুযোগ সুবিধা বহালরেখে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন বকেয়া ভাতাদি থাকলে তাও পরিশোধ করার জন্য।
কিন্তু আদালতের রায় দীর্ঘ ৩ বছর অতিবাহিত হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিকদের সঙ্গে লাফার্জ কোম্পানী দফায়-দফায় বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে লাফার্জের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পক্ষে আরেকটি কোর্ট অফ কন্টেম মামলা করা হয়েছিল।
সর্বশেষ (গত ২৭ আগস্ট) সিলেটে লাফার্জের সেলস অফিসে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন লাফার্জের উর্ধতন কর্মকর্তারা। এ বৈঠকে ও শ্রমিকদেরকে কোনো সুরাহা না দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে দায়েরি মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের কথা বলে শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া হয়।
বর্তমানে এ মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত কর্তৃক পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিকেশন পিবিআই সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ করেন।
বাদীর মামলার আইনজীবি দিলোয়ার হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে লাফার্জ পরিবহন শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান জানান- ‘দীর্ঘ আট বছর যাবৎ আমরা মামলা পরিচালনা করে নিম্ম আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত চাকুরী বহাল, বেতন ভাতা’সহ আদেশ পেয়েছি। কিন্তু লাফার্জ কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করছেন না। দীর্ঘদিন তারা আমাদেরকে আপিলের মাধ্যমে একের পর এক আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে হয়রানি করে আসছে।’
তিনি বলেন- ‘মামলা তোলার জন্য তারা প্রায়ই হুমকী দিয়ে আসছেন। নির্যাতিত শ্রমিকরা নিরুপায় হয়ে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। গত ৩১ আগস্ট সিলেটে মামলা করেছি আমরা। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইর হাতে দিয়েছেন আদালত।’




