বিয়ানীবাজারে ঐতিহ্যের নৌকাবাইচ : বৈঠার টানে-গানে মুগ্ধ হাজারও দর্শক
বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা

‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়’ বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গানের সুরে সুরে ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারের কুশিয়ারা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
দুবাগ ইউনিয়নের যুবসমাজ আয়োজনে মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটায় কুশিয়ারা নদীর শেওলা সেতু এলাকায় অনুষ্ঠিত এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন কয়েক হাজার দর্শক। নৌকার মাঝিদের কন্ঠে জেগে উঠেছিল গ্রামবাংলার চিরন্তন আঞ্চলিক সারি গান। ঢাক-ঢোল আর করতালের তালে তালে সুরের মায়ায় ডুবে স্রোতস্বিনী কুশিয়ারার জলে বাইচদলের বৈঠার টানে মুগ্ধ হয়েছিলেন হাজারও উৎসুক দর্শক।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিশাল আকারের সুসজ্জিত চারটি নৌকা অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী বাইচ দলগুলো হচ্ছে দুবাগ-১, জলপরি, সাদিমাপুর ও স্বাধীন বাংলা তিলপাড়া। প্রত্যেকটি নৌকা দু’বার করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফাইনালে দুটি নৌকা পরস্পরের মোকাবেলা করে। এতে বিজয়ী হয় জলপুরি দুবাগ।
দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও শ্রমিক লীগ নেতা কলিম উদ্দিনের পরিচালনায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সরওয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- ব্রাজিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামি মাহমুদ কামাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার হোসেন বলেন- নৌকা বাইচ আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মূল অনুষঙ্গ। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। এতে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষ আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পান। তিনি আগামী বছর বর্ধিত পরিসরে কুশিয়ারা নদীতে নৌকা বাইচ আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকার ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথি সরোয়ার হোসেন বক্তব্য প্রদান শেষে আয়োজকদের সাথে নিয়ে বিজয়ী ও বিজিত নৌকা বাইচ দলগুলোর হাতের পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে সভাপতির বক্তব্য রাখেন- ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম। এ সময় তিনি বলেন- কুশিয়ারা নদীতে প্রতিবছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এটি স্থানীয় এলাকার বাৎসরিক আনন্দের প্রাচীন ঐতিহ্য। তাই যুগ যুগ ধরে প্রতি বছর নৌকা বাইচের আয়োজন করেন তারা।




