গাছে গাছে বিজ্ঞাপন : ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মো. আখতার হুসাইন; গাছ মানুষের পরম বন্ধু। গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি আর্থিকভাবেও উপকার করে। কিন্তু আমরা গাছের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করে থাকি।
প্রয়োজনে–অপ্রয়োজনে গাছকে হত্যা করার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছে যেন সর্বত্র।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী জানা যায় সারা বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কের পাশে, সরকারি-বেসরকারি গাছের ডগায় ঝুলছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণার অসংখ্য সাইনবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন ও বিজ্ঞাপন।
পিছিয়ে নেই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলোও, এমনকি আইন জীবিদের বিজ্ঞাপন রয়েছে।
এসব ব্যানার, ফেস্টুন, বিজ্ঞাপন ঝুলানো হয়েছে পেরেক ঠুকে। একেকটি গাছ যেন একেকটি বিজ্ঞাপন বোর্ড, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এভাবে গাছে পেরেক ঠোকা হচ্ছে সর্বদাই।
পোস্টার, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনে এমনভাবে ছেয়ে গেছে যে কোনটা কোন গাছ আর কোনটা বিল বোর্ডের খাম্বা তা আর চেনার উপায় নেই।
এটা খুবই বিপজ্জনক একটি ব্যাপার। পরিবেশবিদদের মতে- পেরেক লাগানোর কারণে গাছের গায়ে যে ছিদ্র হয়, তা দিয়ে পানি বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ঢোকে। এতে গাছের ওই জায়গায় দ্রুত পচন ধরে। ফলে তার খাদ্য ও পানি শোষণপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
এতে গাছ মারাও যেতে পারে এবং। তাই কোনো গাছে পেরেক ঠোকা মানে ওই গাছের চরম ক্ষতি করা। যেখানে আমাদের বেশি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা প্রয়োজন, সেখানে আমরা উল্টো গাছের ক্ষতি করে চলেছি।
এভাবে রাজনৈতিক দলের প্রচারণা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য গাছ ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিৎ। একান্ত প্রয়োজন দেখা দিলে গাছের গায়ে তার বা রশি দিয়ে তা বেঁধে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো যেতে পারে।
কোনোভাবেই পেরেক ঠোকা যাবেনা। গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড না লাগানোর বিষয়ে ২০০২ সালের ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি আইন পাস করা হয়। কিন্তু ব্যপারটা এমন যেমন কাজির গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই। কাগজপত্রে আইনটি থাকলেও, বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই।
এই আইনটি সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে এবং এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। প্রকৃতি রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। তা না হলে গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা কখনোই বন্ধ হবে না। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগ নিতে হবে।




