অভিযানে গেলে আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়: আইজিপি
সময় সংগ্রহ

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন- একটি সুবিধাভোগী চক্র সুন্দরবনে দস্যু বাহিনী গড়ে তোলে। তারা তাদের নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য বনদস্যুদের বনে পাঠিয়ে নানা ধরনের অপরাধ করে আসছিল।
তিনি বলেন- ২০১৫ সালে আমি যখন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে কাজ করি তখনই জলদস্যুদের বিষয়টি মাথায় আসে। এরপর র্যা বের ডিজি হলে এ বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে কাজ শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংস্থার প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে বসেছি। সুন্দরবনে ২৫ হাজার মানুষের জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত কাজ শুরু করি।
সোমবার (১ নভেম্বর) বাগেরহাটের রামপালে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসের তৃতীয় বর্ষপূর্তি ও আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে আইজিপি এসব কথা বলেন।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি আত্মসমর্পণকারী ৩২টি জলদস্যু বাহিনীর ৩২৮ জনকে ১০২টি ঘর, মুদি দোকান ৯০টি, জাল ও মাছ ধরার নৌকা ১২টি। এর মধ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ৮টি ও ২২৮টি গবাদিপশু জলদস্যু ও তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুলিশ প্রধান বলেন- ওই সব অসাধু সুবিধাভোগীরা বনদস্যুদের বাধ্য করতো সুন্দরবনে যেতে। টাকা কিংবা মুক্তিপণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানোর জন্য উৎসাহ দিতো। তারা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা এক সময় পালিয়ে এ পেশাও বেছে নেয়। তবে তারপরও ওই সব সুবিধাভোগীরা বনদস্যুদের পিছু ছাড়েনি। তারা দস্যুদের কাছ থেকে মাস কিংবা বছরওয়ারী মোটা অংকের টাকাও আদায় করতো।
২০১৬ সালে ওই সময় সুন্দরবনকেন্দ্রিক একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাবের সঙ্গে দস্যুদের গোলাগুলিতে অনেকে নিহত ও আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আনসার সদস্য কাঞ্চনকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়। ৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়। ঘনঘন র্যাবের অভিযানে দিশেহারা হয়ে পড়ে জলদস্যুরা। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্নভাবে বর্তমান সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়। তারই অংশ হিসেবে অনেকেই আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে আসে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হয়।
সুন্দরবনে এখন সুবাতাস বইছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন- সুন্দরবনে এখন বাঘ, হরিণ বেড়েছে। বেড়েছে বনের সৌন্দর্য। তবে এটি এত সহজ পথ ছিল না। অনেকে আহত ও মারা গেছেন। দস্যুরা বিভিন্ন সময় অভিযানে গেলে আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। আর যাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, তারা যদি সরকারের যেসব নির্দেশ আছে সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করেন তাহলে এখন তাদের ঘরের মেঝে পাকা হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে থাকলে প্রয়োজনে তার বাড়ির দেওয়ালও পাকা করে দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
শুধু আত্মসমর্পণকারী নয়, তার পরিবার-পরিজন কিংবা ছেলেমেয়েদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নতি সহ নানা বিষয়ে আগামীতে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে মনে রাখতে হবে যে পথ থেকে একবার ফিরে আসা হয়েছে সেখানে আর কোনভাবেই যাওয়া যাবে না। তারপরও কেউ যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আবারও জড়িয়ে পড়েন সেক্ষেত্রে তাকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুল হক টুকু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান, পীর ফজলুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল এম আজাদ।




