সিলেটে আ.লীগের জনপ্রিয়তায় ধস: নাকি সাংগঠনিক ব্যর্থতা ?
সময় সংগ্রহ

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক মন্ত্রী রয়েছেন সিলেটের। তাদের হাত ধরে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়নও হয়েছে সিলেটে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতও সিলেটকে ঢেলে দিয়েছেন। তবুও দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের ফলাফলে বলতে গেলে নৌকা ডুবেছে। কিন্তু কেন? এই কেনোর উত্তরে রয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দলের এমন ভরাডুবিতে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব।
যদিও বিষয়টিকে সাংগঠনিক ব্যর্থতা কিংবা দলের জনপ্রিয়তায় ধস হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
সিলেট জেলায় মোট ১৫টি ইউপিতে নির্বাচন হলেও মাত্র ৬টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আর দু’টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ৪টিতে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি, ১টিতে জামায়াত ও ১টিতে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অর্ধেকেরও কম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জয় নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কেবল তাই না, সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে জামায়াত নেতার কাছেও হারতে হয়েছে নৌকার প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিনকে। স্বাধীনতা বিরোধী একটি সংগঠনের নেতার কাছে নৌকা প্রতীকের হার নিয়ে ব্যপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের এমন ভরাডুবির কারণ হিসেবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রার্থী বাছাইকেই দোষ দিচ্ছেন। নির্বাচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে সরগরম সমালোচনা।
তবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর মতে তৃণমূল্যের পছন্দের প্রার্থীদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোন ব্যর্থতা নেই বলে তাঁর দাবি। এমনকি সারা দেশের তুলনায় সিলেটেই প্রার্থী বাহাইয়ে স্বচ্ছতা ছিলো বলেও জানান তিনি।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ইমাদকে নিয়ে শুরু থেকেই ছিলো বিতর্ক। তার মনোনয়ন প্রার্থীর পর পর উপজেলা শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ব্যপক প্রচার হয়। এ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রচার হয়। কিন্তু শুরু থেকেই শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইকবাল হোসেন ইমাদ।
তবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে কোন ভুল থাকার সুযোগ নেই। এখানে অনেক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ব্যাপারও থাকে।
এদিকে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সিলেট সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে মধ্যে মোগলগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হিরণ মিয়া, কান্দিগাঁওয়ে জামায়াত নেতা আবদুল মনাফ, জালালাবাদে আওয়ামী লীগের ওবায়দুল্লাহ ইসহাক ও হাটখোলায় খেলাফত মজলিসের মাওলানা রফিকুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন।
অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ইসলামপূর পূর্ব ইউনিয়নে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলম, তেলিখালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুল ওয়াদুদ আলফু, ইছাকলসে বিএনপি সমর্থক সাজ্জাদুর রহমান, উত্তর রণিখাইয়ে আওয়ামী লীগের ফয়জুর রহমান ও দক্ষিণ রণিখাইয়ে আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন এমাদ বিজয়ী হয়েছেন।
এছাড়াও বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি নেতা মো. আব্দুল মুনিম, পূর্ব গৌরীপুরে বিএনপি নেুা মুজিবুর রহমান মুজিব, পশ্চিম গৌরিপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুর রহমান মাখন, বোয়ালজোড়ে আওয়ামী লীগের আনহার মিয়া, দেওয়ানবাজারে বিএনপির নাজমুল আলম ও পূর্ব পৈলনপুরে আওয়ামী লীগের শিহাব উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন।
হিসেব অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ভরাডুবি দেখা যাচ্ছে; এমন প্রশ্নে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, এটা ভরাডুবি না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে অনেক কিছু নির্ভর করে। সেখানে আত্মীয়তার সম্পর্ক, গোষ্ঠী সম্পর্ক ইত্যাদি অনেক সময় ফলাফলে প্রভাব পড়ে।
তাহলে জনগণ কি এ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে; এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন- আমি আগেই বলেছি- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে আত্মীয়তার সম্পর্ক, গোষ্ঠী সম্পর্কসহ পারিপার্শ্বিক বিষয় প্রভাব পড়ে। তবে এ নির্বাচন প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে স্বচ্ছ নির্বাচন হয়। অধিকাংশ জায়গায় নৌকার পরাজয় হয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু কি কারণে পরাজয় হয়েছে সেটি নিয়ে আমরা নিজস্ব তদন্ত কমিটি করে তদন্ত করে দেখব। তবে বিএনপি এতদিন নির্বাচন নিয়ে যে অপপ্রচার চালিয়েছিলো এই নির্বাচন তা ভুল প্রমাণ করে এটাই প্রামণ করেছে আওয়ামী লীগের অধীনেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।




