‘হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশের সম্পদ, সে সম্পদ নিয়ে ভালোমতো চর্চা হোক’
সময় সংগ্রহ

হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশের সম্পদ উল্লেখ করে সে সম্পদ নিয়ে ভালোমতো চর্চা হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের সহধর্মিনী মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বলেন- ‘যারা হুমায়ুনকে ভালবাসেন, তাদের অনেকেই হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে কাজ করতে চান।’
তবে তিনি হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে যা ইচ্ছে তা না করতেও অনুরোধ করে বলেন- ‘গত ১০ বছর ধরে হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে যেনতেনভাবে কাজ করার চেষ্টা বা হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে হঠাৎ করে একটা সিনেমা বানিয়ে ফেলা, একটা বই লিখে ফেলা বিষয়টি নিয়ে আমার খুব খারাপ লেগেছে।’
আজ শনিবার শাওন গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পন, কবর জিয়ারত, কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে শিশুপুত্র নিশাদ ও নিনিত’সহ নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কবর জিয়ারত, দোয়া ও পুষ্পস্তক অর্পণ করে দুই পুত্রকে নিয়ে কেক কাটেন শাওন। এছাড়া সকাল থেকেই ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে গিয়ে প্রিয় লেখকের কবরে শ্রদ্ধা জানান, সেইসঙ্গে নুহাশ পল্লী ঘুরে দেখেন।
এ সময় শাওন আরও বলেন- ‘হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে অনেকে ভালোভাবে গবেষণা করছেন, পিএইচডি করছেন। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে পিএইচডি হচ্ছে, অনেকেই তাকে নিয়ে চর্চা করছেন। সেই চর্চাটা বাড়ুক, ছাত্ররা হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে জানুক, সবাই তার সম্বন্ধে জানুক। তাকে নিয়ে ভুল কোনো চর্চা না হোক- এটা আমার একটা বড় প্রত্যাশা। কারণ হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশের সম্পদ, সে সম্পদ নিয়ে ভালোমতো চর্চা হোক।’
শাওন আরও জানান- ‘যারা হুমায়ুন আহমেদের পাঠক, হুমায়ুন আহমেদের নাটকের-সিনেমার দর্শক, হুমায়ুন আহমেদের গানগুলো যারা ভালবাসেন, তারা হুমায়ুন আহমেদকে আজীবন ভালবাসেন এবং ভালবেসে যাবেন। তারাই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হুমায়ুন আহমেদকে তুলে ধরবেন, হুমায়ুন আহমেদের লেখা, সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরবেন। এটাই আমার এবং আমাদের পরিবারের আজীবনের প্রাপ্তি হবে। হুমায়ুনহীন হুমায়ুন আহমেদের এবারের জন্মদিন হলো ১০ম বার।’
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই হুমায়ুন আহমেদ আমেরিকার একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে তাকে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীর লিচুগাছ তলায় দাফন করা হয়।
এদিকে, নুহাশ পল্লীর ভাস্কর আসাদুজ্জামান খান বলেন- গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে শাওন তার দুই পুত্রকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে যান। রাত ১২টা এক মিনিটে নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০০১টা মোমবাতি প্রজ্জলন এবং কেক কাটেন।




