তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর উন্নয়ন হলেও হয়নি চিকিৎসা সেবার
সময় সংগ্রহ

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর: ১৯৭৮ সালে নির্মিত ৩১ শয্যাবিশিষ্ট তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১৯ সালে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়। তবে উদ্বোধনের তিন বছর পার হলেও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও লোকবল নিয়োগ না দেওয়ায় এখানে এখনও ৩১ শয্যারই কার্যক্রম চলছে।
৩১ শয্যার জন্যও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই। এছাড়া কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
সরজমিনে হাসপাতাল গিয়ে জানা যায়, শুধু ভবন উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ ৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসকের জায়গায় রয়েছেন ৭ জন। ৬ চিকিৎসকের পদ শূন্য। তার মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট ৪ জন, আবাসিক চিকিৎসক ১ জন, সহকারী রেজিস্টার সার্জন ১টি পদ শূন্য রয়েছে।
অপরদিকে সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৯টির মধ্যে ৯টি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ২টি পদের মধ্যে ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওগ্রাফি ১টি পদের মধ্যে ১টি(গত দু-যুগ ধরে শূন্য ফলে কোন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা হয় না), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডেন্টাল ১টি পদের মধ্যে ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফার্মাসি ৩টি পদের মধ্যে ৩টি শূন্য, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ৬টি পদের মধ্যে ২টি শূন্য রয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ সর্বমোট ১২৪টি পদের বিপরীতে কমর্রত ৫৬জন। ৬৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। উপ সহকারি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চালানো হচ্ছে জরুরি বিভাগ। গাইনি চিকিৎসক না থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে মহিলাদের চিকিৎসা সেবা।
গত ৭ বছর পূর্বে একটি এক্সরে ও ডেন্টাল মেশিন দিলেও একদিনের জন্য ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়েছে গেছে। গত ১৭বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পরে আছে ৩টি জেনারেটার, নৌ এ্যাম্বুলেন্সটিও অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
হাওর বেষ্টিত দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাঠাবুকা গ্রামের সুর্বনা বেগম জানান, হাসপাতালে এসে সামান্য জ্বরের রক্ত পরীক্ষা করাতে পারেনি। বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সময় নষ্ট করে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। এছাড়াও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় আমরা চরম দুভোর্গে আছি আমরা।
সীমান্ত এলাকা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগলী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমির মিয়া জানান, পড়ে গিয়ে হাত ফুলে গিয়েছিল হাসপাতালে এক্সরে মেশিন থাকলেও লোক না থাকায় আবারও ১০ কিলোমিটার দুরে বাদাঘাট বাজারে গিয়ে সময় নষ্ট করে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনতে হয়েছে।
ডেন্টাল সার্জন সিফাত রহমান জানান, টেকনোলজিস্ট ও যন্ত্রপাতি ঠিক না থাকায় দাঁতের কোনো চিকিৎসা তিনি করতে পারছেন না। তবে যারা দাঁতের সমস্যা নিয়ে যারা আসছেন তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন কুমার বর্মণ ও ডা. ফয়েজ আহমেদ বলেন, চিকিৎসক কম থাকায় সেবা দিতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মির্জা রিয়াজ হাসান জানান, লোকবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন চালু করার হচ্ছে না। ফার্মাসিষ্টসহ অন্যান্য জনবল না থাকায় ভিন্ন লোক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে চিকিৎসক সংকট থাকার পরও আমরা যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমি শূন্য পদগুলোর বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।




