পানির বিল নিয়ে সিসিকের সভা শনিবার : আশ্বাসেও থামছেনা কর্মসূচী
স্টাফ রিপোর্টার

সিসিকের বর্ধিত পানির বিল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের আশ্বাসেও থামছেনা আন্দোলন। টানা ৩ মাস থেকে প্রতিদিনই নগরীর কোননা কোন ওয়ার্ড কিংবা এলাকায় চলে আসছে নানা কর্মসূচী। মঙ্গলবারও নগরীর বিভিন্ন স্থানে বালতি ও কলসি নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ। আন্দোলন দমাতে শীঘ্রই পানির বিল কমাতে বৈঠকে বসছেন সিসিক কর্তৃপক্ষ। এর আগে ১২ ডিসেম্বর পানির বিল নিয়ে কাউন্সিলরদের সাথে জরুরী বৈঠকে বৈঠকে বসেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সেই সভায় পানির বিল কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে আগামী ১ জানুয়ারী পরিষদের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে পারে বলে সিসিকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে- লকডাউন চলাকালে চলতি বছরের ২১ জুন সিলেট সিসিকের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় নগরীতে মাসিক পানির বিল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। কিন্তু পানির বিল বৃদ্ধির বিষয়টি গত ২ সেপ্টেম্বর সিসিক এক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবাইকে জানায়। এরপর থেকে বাড়তি পানির বিল নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি পানির বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদের অনেকটা হার্ডলাইনে চলে যান করোনা পরিস্থিতিতে নানামুখী সংকটে পড়া সাধারণ মানুষ। ফলে দীর্ঘদিন পর পানির বিল নিয়ে উত্তপ্ত হচ্ছে নগরী।
সূত্রে জানা গেছে- গত ২ সেপ্টেম্বর সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় পানির বিল বাড়ানোর বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- গত ১ জুলাই থেকে পানির বিল বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর হয়েছে। আবাসিক সংযোগে প্রতি মাসে আধা ইঞ্চি ডায়ামিটারের (ব্যাস) লাইনে বিল ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বিল ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা এবং এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সংযোগে আধা ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে মাসিক বিল ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বাড়ানো হয়। এছাড়া, এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মাসিক বিল ১ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ টাকা, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা এবং সরকারি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়।
এরপর থেকেই নগরীতে পানির বর্ধিত বিল প্রত্যাহারে প্রতিবাদ শুরু হয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পানির বিলের পাশাপাশি হোল্ডি ট্যাক্স’সহ সিসিকের নানা ফি কমানোর দাবীতে স্বোচ্ছার হচ্ছেন মানুষ। ১ জানুয়ারী বৈঠকে পানির বিল নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।




