আশাশুনিতে পরাজিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ার অভিযোগ: বাড়ি ঘেরাও
সময় সিলেট ডেস্ক

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ করেছেন- তাঁর কর্মী–সমর্থকদের ওপর পরাজিত প্রার্থী গুলি ছুড়েছেন। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা পরাজিত প্রার্থীর বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছেন। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার তোয়ারডাঙ্গা সেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন- ৫ জানুয়ারি পঞ্চম দফার নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী অহিদুল ইসলাম।
গাদাইপুর গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী তিনজন বলেন- সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনেওয়াজ ১৫-১৬ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে তোয়ারডাঙ্গা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে তোয়ারডাঙ্গা গ্রামের সেট এলাকায় পরাজিত প্রার্থীর বাড়ির দোতলা থেকে শাহনেওয়াজকে লক্ষ্য করে ইটের টুকরা ছোড়া হয়। এরপর শাহনেওয়াজের কর্মী-সমর্থকরাও এক জায়গায় জড়ো হয়ে ওই বাড়ি লক্ষ্য করে ইটের টুকরা ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে পরাজিত প্রার্থী অহিদুল ইসলামের বাড়ির দোতলা থেকে শাহনেওয়াজের কর্মী-সমর্থকদের ওপর শটগানের গুলি ছোড়া হয়। এতে ১০ জন আহত হয়। এরপর শাহনেওয়াজ ডালিমের পক্ষের হাজারখানেক মানুষ অহিদুলের বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। তাঁরা অহিদুলকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সেখানে পুলিশ ও বিজিবি রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- গুলিবিদ্ধ দুজনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শাহনেওয়াজ ডালিম বলেন- অহিদুল ইসলাম তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়েন। গুলি ও ইটের আঘাতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।
তবে অহিদুল ইসলাম বলেন- হঠাৎ করে সকালে শাহনেওয়াজ কয়েক শ মানুষ নিয়ে তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ইটের টুকরা মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে একপর্যায়ে তিনি তাঁর বৈধ শটগান দিয়ে গুলি ছুড়তে বাধ্য হন। তবে গুলিতে কারও আহত হওয়ার কথা নন।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বলেন- ইটের টুকরা ছোড়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। একপর্যায়ে শাহনেওয়াজের পক্ষের লোকজন অহিদুলের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি গুলি ছোড়েন। এতে তিন-চারজন আহত হন। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি রয়েছে। অহিদুল তাঁর বাড়ির ভেতরে রয়েছেন। বাইরে কয়েক শ উৎসুক মানুষ রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




