ফের বিধিনিষেধের খবরে সিলেটের ব্যবসায়ী মহলে শঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার

সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের আসছে বিধিনিষেধ। এমন সংবাদে সিলেটের ব্যবসায়ীমহলে বিরাজ করছে শঙ্কা। দুই দফা করোনার কারণে টানা লকডাউনে পুঁজি হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ধারদেনা করে কোনমতে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এখনো পরিশোধ করতে পারেননি ধারদেনা। এরমধ্যে আবার বিধিনিষেধ আসলে কি পরিণতি হবে এমন শঙ্কায় শঙ্কিত ছোট বড় ব্যবসায়ী। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে আপাতত লকডাউনের বদলে ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ সহ বিধিনিষেধ জারি করতে যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে- সর্বশেষ শনিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গেল ৩ মাস সিলেট বিভাগে করোনার সংক্রমণ কম ছিল। সংক্রমণের হার ছিল শূন্য থেকে ১ শতাংশের মধ্যে। গত ডিসেম্বরের ৬, ১১, ১৪, ১৯ ও ২৬ তারিখ সংক্রমণের হার ছিল শূন্য। এ দিনগুলোতে করোনাক্রান্ত কোন রোগী শনাক্ত হননি। তবে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ফের সংক্রমণের হার বাড়া শুরু হয়েছে। এদিন সংক্রমণ হার ১ শতাংশ অতিক্রম করে। পরবর্তীতে ১ জানুয়ারী সিলেট বিভাগে করোনায় সংক্রমণের হার ছিল ১.৩১ ভাগ, ২ জানুয়ারী ০.৪২, ৩ জানুয়ারী ১.২০, ৪ জানুয়ারী ১.৫২ ভাগ। ৫ জানুয়ারী সংক্রমণের হার বেড়ে দাড়ায় ৩.১৪ ভাগে। ৬ জানুয়ারী সংক্রমণের হার ছিল ২.৮৮ ভাগ। এদিন করোনা শনাক্ত হন ২২ জন। যা এর আগের ৯৫ দিনের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। ওই দিনের আগে সর্বশেষ গত বছরের ১ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২ অক্টোবর সকাল ৮টার মধ্যে ২২ জন করোনা রোগীর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানায়- বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে সংক্রমণের হার ছিল ১.৬১ ভাগ। এ সময়ে ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণ ছাড়িয়েছে ৩ শতাংশ।
সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান- ফের বিশ্বব্যাপী করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। দেশের ন্যয় সিলেটে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এ সময়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে, মাস্ক পরিধান করতে হবে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। না হয় অতীতের মতো সিলেটেও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
জানা গেছে- করোনার দুই দফা ঢেউয়ে সারাদেশের ন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ীগণ। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস দোকান বন্ধ রাখতে রাখতে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছেড়ে চাকুরী করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীগণ। তারা আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে ধারদেনা করে ফের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। কোন রকমে পুঁজি দাঁড় করালেও আয়ের মুখ দেখতে পারছেন না কেউ কেউ। এরমধ্যে ফের লকডাউন বা বিধি নিষেধ আসলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন অনেক ব্যবসায়ী।
নগরীর হাসান মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী সেলিম আহমদ বলেন- করোনা আর লকডাউনের দুর্বিষহ যন্ত্রণায় আমরা নিঃশেষ। ব্যবসার ক্ষতি আর টেনে নিতে পারছিনা। আবার যদি বিধিনিষেধের নামে দোকান পাঠ বন্ধ কিংবা খোলা রাখতে নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়া ছাড়া কোন গতি নেই। আমাদের দাবী কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহিত করুন। ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন।
এ ব্যাপারে হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মুহাম্মদ আজিজুল করিম এই প্রতিবেদককে বলেন- করোনার নতুন ধরন ওমিক্রণের কারণে বিধিনিষেধ আসছে বলে গণমাধ্যমের বরাতে আমরা জানতে পেরেছি। বিধিনিষেধের নামে যদি সবকিছু খোলা রেখে শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলে এটা চরম অবিচার করা হবে। রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হলে ব্যবসায়ীদেরকে ৭টা থেকেই প্রসেসিং শুরু করতে হবে। সত্যিকার অর্থে নগরীতে ব্যবসার ভালো সময় হচ্ছে ৭ টা থেকে ৯টা। আমাদের দাবী কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষকে উৎসাহিত করুন আমরা ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করবো। অন্তত আমাদের দোকানপাঠ যাতে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ রাখা হোক।
ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ সিলেটের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন দৈনিক বলেন- করোনার সংক্রমণ বাড়ছে এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীরা সরকারী নিয়মনীতি মেনে এসেছে ভবিষ্যতেও মেনে চলবে। এক্ষেত্রে আমাদের দাবী ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিতে হবে। অতীতে আমরা দেখেছি যত কঠোর বিধিনিষেধ ও অভিযান শুধু শপিং মলের ক্ষেত্রেই। রাস্তার পাশে অলিগলিতে ঠিকই দোকানপাঠ খোলা ছিল। আমরা শহরের ব্যবসায়ীদেরকে দোকান ভাড়া’সহ সিটির নানা ট্যাক্স দিতে হয়। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ রেখে এসব ট্যাক্স পরিশোধ করা আমাদের জন্য কঠিন। তাই সরকারের কাছে দাবী ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান খোলা রাখার সময়ের দিকটা বিবেচনায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন- সিলেটের ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীরা প্রণোদনা পায়নি বললেই চলে। বড় বড় ইন্ড্রাস্ট্রিজ কল কারখানার মালিকগণ প্রণোদনা পেয়েছেন। প্রণোদনার জন্য আমরা চেম্বার অব কমার্স’সহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে অনেক ঘুরাঘুরি করেছি। কিন্তু লাভ হয়নি। এবার যদি বিধিনিষেধ বা লকডাউন হয় তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের প্রণোদনার নিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান তিনি।




